স্মার্ট যুগেও টিকে আছে ঐতিহ্যবাহী শিলপাটা

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪:৩৪

বাঙালির রান্নাঘরের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ শিলপাটা। প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় যেখানে ইলেকট্রিক গ্রাইন্ডার, ব্লেন্ডারের ব্যবহার বাড়ছে, সেখানে এখনো গ্রামবাংলার অনেক ঘরেই রান্নার মসলা বাটা হয় শিলপাটায়। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে শিলপাটায় মসলা বাটার শব্দ এখনো শোনা যায়।

এই শিলপাটা ধার দিয়ে সংসার চলে ফুলবাড়ী উপজেলার পানিমাছকুটি গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী শুশীল চন্দ্র মোহন্তের। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিলপাটা ধার দেওয়ার কাজ করে আসছেন। একসময় হেঁটে কাজ করলেও বার্ধক্য জনিত কারনে এখন বাইসাইকেলে ঘুরে কাজ করেন।

প্রতিদিন দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে ফুলবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় যান শিলপাটা ধার দিতে। বিনিময়ে নেন এক কেজি চাল অথবা নগদ টাকা।

কারিগর শুশীল মোহন্ত বলেন, ‘অনেকেই ভাবে শিলপাটা বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে এখনও এর ব্যবহার আছে। শহরে হয়তো কমেছে, কিন্তু গ্রামে শিলপাটা ছাড়া রান্না অসম্পূর্ণ।’

মনি বালা রায় ও উলপন বেওয়া নামে দুই গৃহিণী বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে এখনো শিলপাটা ছাড়া রান্না হয় না। তবে বড় অনুষ্ঠান হলে তখন ব্লেন্ডারে মসলা গুঁড়া করে আনি।’

একই গ্রামের শাপলা রানী ও কহিনুর বেগম জানান, শিলপাটা এখনো দরকারি। বিশেষ করে বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠানে হলুদ ও মেহেন্দি বাটার জন্য তারা শিলপাটাই ব্যবহার করেই থাকেন।

ইত্তেফাক/এএস/এএইচপি