ওপেক ছাড়ার ঘোষণা কাতারের

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:০২

তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে তেলসমৃদ্ধ দেশ কাতার। সোমবার এ ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল কাবি। খবর বিবিসি'র।

২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানা যায়। কাতার পেট্রোলিয়ামের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক টুইটের মাধ্যমে এ খবরের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যদিও এর কয়েকদিন আগে ওপেক সদস্যরা এক অনুষ্ঠানে ভিয়েনায় মিলিত হয়েছিলেন।

বিশ্বে সবেচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক রপ্তানিকারক গ্যাস কাতার। যদিও দেশটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে অর্থ দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ কাতারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কাতার ১৯৬১ সালে ওপেকে সদস্য হিসেবে যোগদান করেছিল। ওপেক ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেওয়ার পর কাতার বলেছে, তারা এখন তেল বাদ দিয়ে গ্যাস উত্তোলনে আরো বেশি মনোযোগী হবে। এদিকে কাতার পেট্রোলিয়াম জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই ওপেককে কাতারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল কাবি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পের উন্নয়নে কাতারীয় প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। বছরে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের উত্পাদন ৭৭ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ১১০ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আসন্ন ওপেক সম্মেলনের প্রাক্কালে সংস্থাটি ত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে কাতার। এর আগে ২০১৭ সালের ৫ জুন সৌদি জোটের কাতারবিরোধী অবরোধের ঘটনায় সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এদিকে গত মাসে তেলের দাম প্রচণ্ডরকমভাবে কমে যাওয়ায় চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওপেকের বৈঠকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কাতারের কোনো চুক্তি বিষয়ে গভীরভাবে নজর রাখবে বলে জানা যায়। ওপেক ধারণা করছে, কাতার চলে গেলেও অন্য ছোট উত্পাদকের ওপর তেলের মূল্য পরিবর্তনে কোনো প্রভাব পড়বে না।

 ইত্তেফাক/এসআর