দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে তীব্র স্রোত, ফেরির ইঞ্জিন দুর্বল, নদী ভাঙনসহ নানা সংকট দেখা দেয়ায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে যানবাহন পারাপার ব্যাপক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে দৌলতদিয়ায় পাড়ের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের লম্বা লাইন সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার বিকেল নাগাদ দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ফিডমিল পর্যন্ত অন্তত সাড়ে চার কিলোমিটার জুরে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এ সময় হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে নদী পার হতে আসা শত শত যানবাহন মহাসড়কে সিরিয়ালে আটক পড়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: বাগাতিপাড়ায় মা-মেয়ের একসঙ্গে এইচএসসি পাস
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মার পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় দৌলতদিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদ সীমার ১০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অঞ্চলে স্বাভাবিক পানির স্তর ৮.৬৫ সে.মি.। দ্রুত এ এলাকার বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য বুধবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন এক জরুরি সভার আয়োজন করে। সভায় দৌলতদিয়া ঘাট বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ জানান, পদ্মা নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরিগুলো নদী পারাপারে দ্বিগুন সময় ব্যয় হচ্ছে। তাছাড়া এ রুটে চলাচল করা ১৫টি ফেরির মধ্যে ৩টি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বসা রয়েছে। এ সময় তিনি আরো জানান গতকাল রাতে স্রোতের গতির সাথে কুলিয়ে উঠতে না পারায় একটি ফেরির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়।
এ রুটের ১৫টি ফেরির মধ্যে শাপলা শালুক ও সন্ধ্যা মালতিসহ ৩টি ফেরি মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। সবমিলে এরুটে নদীতে তীব্র স্রোত, ফেরির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফেরিগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নদী পার হওয়ার জন্য ঘাট এলাকায় আসা যানবাহন আটকে থেকে লম্বা সিরিয়ালের সৃষ্টি হচ্ছে বলে দৌলতদিয়া ঘাট বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৫টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছে। তবে ২টি ফেরি সংস্কারে আছে। তীব্র স্রোত ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফেরি চলাচল কিছুটা ব্যাহত হওয়ায় ঘাট এলাকায় সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআরএম
