রপ্তানির বড়ো বাজার হয়ে উঠছে জাপান

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৯, ২০:৩৯

এশিয়ার সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ জাপান ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রপ্তানির বড়ো বাজার হয়ে উঠছে। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে ১৩৬ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। পূর্বের অর্থবছরে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১৩ কোটি ১৯ লাখ ডলারের। অর্থাত্, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে জাপানে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে দেশটিতে প্রধান রপ্তানি গার্মেন্টস পণ্য এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গত অর্থবছরে সেখানে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ। ফলে প্রধান রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে জাপান বড়ো বাজার হয়ে উঠছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এমন তথ্য জানা গেছে।

২০০৮-১৯ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২০ কোটি ২৬ লাখ ডলার। সেই হিসাবে গত ১০ বছরে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় সাত গুণ। অবশ্য রপ্তানি বাড়লেও এখনো উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ রপ্তানির চাইতে এখনো জাপান থেকে আমদানি করে বেশি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে জানা গেছে, বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য উদীয়মান নতুন বাজারের মধ্যে জাপানেই সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে। জাপান ছাড়াও নতুন বাজাগুলোর তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্কসহ আরো কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ভারত ও চিলিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার জাপানের চাইতে বেশি হলেও পরিমাণে বাদবাকি দেশগুলো জাপানের চাইতে অনেক পিছিয়ে।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, ২০১১ সালে জাপান বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা (শুল্কমুক্ত রপ্তানি) দেওয়া এবং এর শর্ত শিথিল করার পর থেকে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। তবে দেশটিতে আরো বেশি হারে রপ্তানির সম্ভাবনা থাকলেও তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জাপানের বাজারে অন্যতম বড়ো তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, দেশটিতে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। অতীতে পোশাকের মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে দুই স্তরের (সুতা থেকে কাপড় ও কাপড় থেকে পোশাক বানানো) শর্ত থাকলেও তা শিথিল করা হয়। নতুন বাজার হিসেবে সেখানে রপ্তানিতে সরকার ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে।

অন্যদিকে গত ছয় বছরে দেশের গার্মেন্টস কারখানার নিরাপত্তার মান উন্নয়নে নেওয়া ব্যাপক কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের এ খাতের শ্রম নিরাপত্তার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এসব কারণে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে।

অবশ্য এসব সুযোগের যথাযথ সদ্ব্যবহার করতে পারছে না বাংলাদেশ। তিনি বলেন, চীনের উত্পাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পোশাকের দরও বাড়ছে। এর ফলে জাপান সেখান থেকে আমদানি কমিয়ে অন্য দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছিল। বাংলাদেশ ছিল এর সবচেয়ে বড়ো বিকল্প। কিন্তু বাংলাদেশের চাইতে এই সুযোগের বেশিরভাগই নিয়ে গেছে ভিয়েতনাম।

অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ইত্তেফাককে বলেন, জাপানের মতো নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়াতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সুফল মিলছে। তবে গার্মেন্টস নির্ভরতা কমিয়ে পণ্য বহুমুখীকরণে মনোযোগ দিতে পারলে সেখানে রপ্তানি আরো বাড়বে। 

জাপানে গার্মেন্টস ছাড়াও রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে হিমায়িত মাছ ও খাদ্য, দুগ্ধজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, পেপার ও পেপারবোর্ড, সিরামিক পণ্য।