ঈদ মানেই আনন্দ। দিনটি ঘিরে সামর্থ অনুযায়ী নতুন কাপড় পরিধান করে সবাই আনন্দ-উদযাপন করে। আর কিছুদিন পরই ঈদ-উল-ফিতর। এরই মধ্যে ঈদ যেন দরজায় কড়া নাড়ছে।
কিন্তু বেশিরভাগ সময় ঈদেও আনন্দের আলো থেকে বঞ্চিত রয়ে যায় পথশিশুরা। ঈদ উপলক্ষ্যে চারিদিকে কতো আয়োজন থাকে, অথচ সেইসব আয়োজন চোখে দেখা ছাড়া উদযাপন করার মতো সুযোগ পথশিশুদের হয় না।
তবে গত ১৫ মার্চ ইফতারের পর দেখা গেলো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। দেখা যায়, একটি ক্লোথিং প্রতিষ্ঠানের আউটলেট থেকে নিজের পছন্দমতো নতুন জামা হাতে নিয়ে হাসিমুখে বের হচ্ছে পথশিশুরা।
পথশিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা নতুন চকচকে ব্র্যান্ডের জামা ঈদ উপহার হিসেবে পেয়েছে। আর পথশিশুদের এসব উপহার দিচ্ছেন আরাবী বিনতে শফিক শিফা নামের ১৪ বছর বয়েসী এক শিশু। গুটি কয়েক পথশিশুর কাছে 'শিফা আপু' নামটাই যেন অনেক আপন। সত্যিই তো আপনজন, তা না হলে কী আর কেউ কাউকে এভাবে উপহার দেয়।
নতুন জামা উপহার পেয়ে সোহেল নামের এক পথশিশু তার অনুভূতি জানিয়ে বলে, 'আগে ঈদের দিন নতুন কাপড় কোনোদিনও পরছি না। এইবার শিফা আফু কিইনা দিছে। আমরা ঠাণ্ডা দোকানে আইসা পছন্দ কইরা কাপড় লইয়া গেছি।' শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আউটলেটই পথশিশুদের কাছে ঠান্ডা দোকান। আর পথশিশুরাও নিজের পছন্দমতো ঈদের জামা পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত।
এ নিয়ে শিশু আরাবী বিনতে শফিক শিফার অনুভূতি জানতে চাইলে সে জানায়, বেশিরভাগ পথশিশুর মা বাবা নেই, তাই তাদের আপনজন বলতেও কেউ নেই। আমার ক্ষুদ্র সামর্থ দিয়ে আমি চেষ্টা করেছি তাদের মুখে হাসি ফোটাতে। আর পথশিশুদের এই আনন্দটুকোই আমার সফলতা।
খুঁজ নিয়ে জানা যায়, নিজের জমানো টাকা ও ফিল্যান্সিংয়ের টাকা রমজানে পথশিশুদের জন্য ব্যয় করে শিফা। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, যে বয়সে শিশুরা নিজের জন্য ঈদের জামা নিয়ে হৈ-হুল্লোড়ে ব্যস্ত থাকে, সেই বয়সে শিফা অসহায় শিশুদের কথা ভেবেছে এবং তাদের কাছেও ঈদ আনন্দ পৌঁছে দিয়েছে।

