চুনারুঘাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভাতিজাকে তুলে নিয়ে হত্যা করানোর অভিযোগে এক র্যাব সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন। ঐ র্যাব সদস্যের নাম সাদেক মিয়া। তিনি বিজিবি থেকে র্যাবে সংযুক্ত হন। প্রায় এক মাস আগে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের পর তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করল। গত বুধবার এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা। এদিকে প্রায় এক মাস পর গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে চুনারুঘাটে দুলা মিয়ার মরদেহ নিয়ে দাফন করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাজধানীর বুড়িগঙ্গা থেকে ১৮ জুন লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে জুরাইন কবরস্থানে দাফনও করা হয়। কিন্তু এক কিশোরের তোলা অপহরণে ব্যবহূত মাইক্রোবাসের ছবির সূত্র ধরে হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ১৭ জুন চুনারুঘাট থেকে দুুলা মিয়াকে তারা অপহরণ করেন। তার চাচা বিজিবি সদস্য সাদেক মিয়ার নির্দেশ অনুযায়ী তাকে হত্যা করা হয়। অপর দুই পেশাদার খুনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সুপার জানান, সাদেক ঢাকায় তার পরিচিত কিলারদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সাদেক মিয়ার ভাগনে আফরাজ মিয়ার সহযোগিতায় আসামিরা তাকে অপহরণ করে। পরে হত্যা করে লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়। ১৯ জুন দুলার ভাই ইদু তিনজনকে আসামি করে চুনারুঘাটে অপহরণ মামলা করেন।
পুলিশ সুপার জানান, বিভিন্ন টোল প্লাজার সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেই সূত্র ধরে মাইক্রোবাসের চালক ভোলা জেলার লালমোহন থানার ইউসুফ সরদারকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয় কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার মামুন মিয়াকে। তারা উভয়েই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া ভারাটিয়া খুনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জসিম উদ্দিন ও বরিশালের গৌরনদীর শামীম সরদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে ৩০ জুন গ্রেফতার হন সাদেক মিয়ার ভাগনে আফরাজ মিয়া।
টমটমচালককে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে বিবৃতি
এদিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে গতকাল আলমগীর মিয়া (২৬) নামে এক টমটমচালককে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে ফেলে রাখে। পরে পরিচয় গোপন করতে লতাপাতা দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে লাশ বিকৃত করে দেয় তারা। আলমগীর বনগাঁও গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।
