কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

হাসি-কান্নার মিলন উত্সব

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৪৭

  আবু বকর রায়হান

 

চার পাশে উল্লাসের প্রতিধ্বনি। সাদা রঙয়ের   টি-শার্ট নানা রঙে একাকার। কেউ কেউ মার্কার কলম নিয়ে বন্ধুর জন্য শুভকামনা লিখছে- অনেক ভালো থাকিস, দেখা হবে সময়ে-অসময়ে। এভাবেই হাসি-আড্ডা-আনন্দে অতিবাহিত হয় ক্যাম্পাস জীবনের শেষ দিনটি। এত আনন্দের মাঝেও বুকে চিনচিন ব্যথা সকলের। কি যেন হারিয়ে যাচ্ছে জীবন থেকে? আর তাই বারবার অশ্রুসিক্ত হচ্ছিল বিদায়ী চোখগুলো। বলছি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস জীবনের শেষ দিনের কথা।

কুয়াশার চাদরে মোড়ানো শীতের সকালে লাল পাহাড়ের ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছিল পথচলা। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঘোরাঘুরি, সকালে বাস ধরে ক্যাম্পাসে এসে এক কাপ গরম চায়ে নাস্তা করা। এমনই সব হাসি গল্পের ভালোবাসায় মোড়ানে ছিল দিনগুলো। দেখতে দেখতে কেঁটে গেল জীবনের সেরা চারটি বছর। হঠাত্ই যেন ডাক পড়েছে বিদায়ের, সময় হয়ে এসেছে হে আগুয়ান।  ক্যাম্পাসের মায়া যে এবার কাটাতে হবে। ফিরতে হবে জীবিকার টানে। শিক্ষা জীবনের বর্ণিল সময়গুলো যেন  তাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

দিনটি ছিল বুধবার। রৌদ্রজ্জ্বল সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকে নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিদায়ী শিক্ষার্থীরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বন্ধুদের মাঝে শুরু হয় রঙের খেলা। একজন আরেকজনকে জাপটে ধরে রঙ মাখিয়ে দেয়। নাচ-গান, হই-হুল্লোড়ে মাতিয়ে রাখে প্রিয়  প্রাঙ্গণ। সারাটা দিন কেটে যায় আনন্দ-উত্সবে। কখনো শিক্ষকদের সাথে কখনো বা বিভাগের ছোটদের সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হওয়ার চেষ্টা। ধীরে ধীরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। বন্ধুরা কলম তুলে নেয় হাতে। আবেগ, ভালোবাসামিশ্রিত একটি লাইন লিখে দেয় অন্য বন্ধুর রঙমাখা টি-শার্টে। ভালোবাসার কাছে হার মানে পুরনো দিনের সব অভিমান।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম পলাশ। অন্য সবার মতো করেই আনন্দে মেতে ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ দিন আজ কেমন বোধ করছেন, এমন প্রশ্নে আবেগাপ্লুত হয়ে যান তিনি। পলাশ বলেন, ‘অনেকদিন পর যখন আলমারি থেকে টি-শার্টটি খুলে দেখবো, তখন কিছু সময়ের জন্য হলেও হারিয়ে যাব ক্যাম্পাসের সোনালি দিনগুলোতে। নিজের অজান্তেই হয়তো হারিয়ে যাবে।’