বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা

‘‌দৈনিক ১ লিটার পানি সাশ্রয় বছরে ৩৪৫ বিলিয়ন লিটার পানি বাঁচাতে পারে’

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৫, ২২:০৫

দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ নিরাপদ খাবার পানির অভাববোধ করেন। বিশ্ব হিমবাহের মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ ব্যবহারযোগ্য পানি সরবরাহ করে। হিমবাহ গলানো রোধ করা না গেলে এ সরবরাহ আগামী ১০০ থেকে ২০০ বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। ‌বিশ্বব্যাপী সবাই যদি প্রতিদিন মাত্র ১ লিটার পানি সাশ্রয় করে, তাহলে বছরে ৩৪৫ বিলিয়ন লিটার পানি বাঁচানো সম্ভব। বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাপী পানি সম্পদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নীতি পরিবর্তন, সামাজিক সচেতনতা ও ব্যক্তিগত দায়িত্বের সমন্বয় প্রয়োজন।

শনিবার (২২ মার্চ) বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বক্তারা। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ওয়াটার ওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশন (বিডব্লিউডব্লিউএ)।

এবারের পানি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘‌হিমবাহ সংরক্ষণ’। মানবন্ধন শেষে ধানমন্ডির ড্যাফোডিল প্লাজায় আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে একটি স্যুভেনির মোড়ক উন্মোচন বিডব্লিউডব্লিউএ।

মানববন্ধনে বিডব্লিউডব্লিউএর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, পানি সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন মানুষের নিরাপদ সুপেয় পানির অভিগম্যতা নেই। জাতিসংঘের মতে, বিশ্বের হিমবাহের মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ ব্যবহারযোগ্য পানি সরবরাহ করে। হিমবাহ গলানো রোধ করা না গেলে এ সরবরাহ সর্বোচ্চ আগামী ১০০ থেকে ২০০ বছর ধরে টিকে থাকতে পারে।

পানি সংরক্ষণে জনসম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‌বিশ্বব্যাপী প্রতিটি মানুষ যদি প্রতিদিন মাত্র ১ লিটার পানি সাশ্রয় করে, তাহলে আমরা বার্ষিক ৩৪৫ বিলিয়ন লিটার পানি বাঁচাতে পারব। সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসতে হবে।

আন্তর্জাতিক পানি সমিতি (আইডব্লিউএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সম্পাদক মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান বলেন, ‘‌উত্তর গোলার্ধের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় নদী ভাঙন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলস্বরূপ, অনেক গ্রামবাসী শহরে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছে এবং জলবায়ু শরণার্থীতে পরিণত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট এই দুষ্টচক্র পানি বণ্টনে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে, খরা তীব্রতর হচ্ছে এবং লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করছে। বিশেষ করে, দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশে লবণাক্ত পানির প্রবাহ কৃষি এবং খাবার পানি, উভয়ের জন্যই একটি বড় হুমকি। ‌বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে আমাদের আরো বেশি গাছ লাগাতে হবে। যদি আমরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিই, তাহলে পানি সংকট আরো তীব্র হয়ে উঠবে।’

ইত্তেফাক/এনএন