ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। জমজমাট হয়ে উঠছে ফুটপাত থেকে শুরু করে ছোট-বড় মার্কেট ও অভিজাত বিপণিবিতানগুলো। সাধ ও সাধ্যের মধ্যেই পছন্দের নতুন পোশাকের সন্ধানে ক্রেতারা ছুটছেন এক দোকান থেকে আরেক দোকানে।
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের বিপণিবিতানগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা। সাধ ও সাধ্যের মধ্যেই ঈদে পছন্দের নতুন পোশাকের সন্ধানে ক্রেতারা ছুটছেন এক দোকান থেকে আরেক দোকানে। তবে দিনাজপুরের শপিং মলগুলোর চেয়ে ফুটপাত অথবা রাস্তার ধারের দোকানগুলোতেই ভিড় বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
দিনাজপুরে সাধারণ সব মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে যেসব এলাকায় পোশাক বিক্রি হয়, তার মধ্যে মালদহপট্টি এলাকায় বসে বউ বাজার, জেল রোড এলাকার রেইনবো মার্কেট এবং কাচারী মার্কেট অন্যতম। দিনাজপুরের বউ বাজারে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা নাজনিন বেগম নামে এক ক্রেতা জানান, ‘আমাদের নির্দিষ্ট আয় দিয়েই সংসার চালাতে হয়। এরই মধ্যে আবার ঈদ। তাই বউ বাজারে এসেছি ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই যদি কিছু পাওয়া যায়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক স্কুলশিক্ষিকা জানান, ইএফটি জটিলতার কারণে সময়মতো বেতন পাচ্ছি না। সামান্য বোনাসেরও কোনো খবর নেই। এর পরও তো সন্তানদের চাহিদা পূরণ করতে হবে। তাই এসব দোকানেই এসেছি আগের জমানো সামান্য টাকা নিয়ে। নিজের না হলেও ছেলেমেয়েদের জন্য কিছু তো কিনতে হবে।
মাগুরা প্রতিনিধি জানান, ঈদে পছন্দের পোশাকটি কিনতে ক্রেতারা ছুটছেন শহরের বেবী প্লাজা, নুর জাহান প্লাজা, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, বকসি মার্কেট, জামে মসজিদ মার্কেট, হাজীপুর কমপ্লেকস, তাজী টাওযার, জমজম মার্কেট, সমবায় মার্কেটে। হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মাগুরা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ছিট কাপড়, গার্মেন্টস ও শাড়ি কাপড়ের দোকানগুলিতে বেশি ভিড় হচ্ছে। ক্রেতারা ছুটছেন কসমেটিক ও জুতার দোকানগুলিতেও। এছাড়া দর্জিরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নতুন পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, সকাল ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় বেশি হলেও জুতা, কসমেটিকস, পাঞ্জাবি ও প্যান্টের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের কমতি নেই। বাহারি রং আর নকশার পোশাকে সেজেছে দোকানগুলো। ক্রেতারাও তাদের পছন্দের পোশাক খুঁজে নিতে ব্যস্ত।
ফুলবাড়ী পৌরশহরে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী সুফিয়া আক্তার বলেন, সন্তানদের জন্য জামা ও জুতা কিনেছি। কাঁটাবাড়ী গ্রামের শাহজান বেগম বলেন, অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি কাপড়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। ব্যবসায়ী মাহাবুব আলম বলেন, মেয়ে বাচ্চাদের পোশাকের মধ্যে নতুন এসেছে ফার্সি ফ্লোক। এর চাহিদা অনেক বেশি। আরেক ক্রেতা সোহেল রানা বলেন, পোশাকের দাম নাগালের মধ্যে হওয়ায় বেচাবিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম খন্দকার মহিব্বুল বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে পৌর এলাকাসহ উপজেলার প্রত্যেক এলাকার মার্কেট, শপিংমলসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। ফুলবাড়ী পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, পৌর শহরের যানজট নিরসনসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
সুজানগর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, সুজানগর বৌ-বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে চলছে জমজমাট ঈদের কেনাকাটা। পৌর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিম রেজা জানান, বাজারে প্রচুর পরিমাণে শিশু-কিশোরদের পোশাক পাওয়া যাওয়ায় মহিলা ক্রেতারা তাদের শিশু-কিশোর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে বাজারটিতে জমজমাটভাবে ঈদের কেনাকাটা করছেন। তবে বাজারটিতে এ বছর জামা-কাপড়ের দাম বেশ চড়া বলে ভুক্তভোগী ক্রেতাদের অভিযোগ। উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মমতা খাতুন বলেন, অন্যান্য মার্কেটে শিশু-কিশোরদের যেসব শার্ট ও ফ্রগ ৫০০-৬০০ টাকায় পাওয়া যায়, বৌ-বাজারে ঠিক একই মানের শার্ট ও ফ্রক ৭০০-৮০০ টাকা দামে কিনতে হয়।
