কুমিল্লায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৫, ১৯:১১

সাংগঠনিক সভাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিএনপির দুই পক্ষ। এতে অন্তত ১৫ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (২৪ মার্চ) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কিছুক্ষণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন- পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী জোবায়ের, মুন্সীরহাট ইউনিয়ন যুবদল কর্মী সবুজ, চিওড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উজিরপুরের আইয়ুব, শ্রীপুর ইউনিয়নের বাইকগ্রামের সাইফুল, একই ইউনিয়নের ছাত্রদল কর্মী ইউসুফ, জনি, যুবদল কর্মী ইকবাল, কালিকাপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, যুবদল কর্মী মহিনসহ নেতাকর্মী। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরে স্থানীয় সাবেক এমপি মুজিবুল হকের ব্যক্তিগত কার্যালয়টি স্থানীয় বিএনপি দখলে নিয়ে তাদের অফিস করে। এ উপজেলায় স্থানীয় বিএনপিতে দুইটি গ্রুপ রয়েছে। ওই কার্যালয়ে সোমবার বিএনপির সাংগঠনিক সভা চলাকালে কামরুল হুদা এবং হিরণ মোল্লা-জুয়েল পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কামরুল হুদা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরণ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল হোসেন জুয়েল সাংবাদিকদের বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় কামরুল হুদা পক্ষের ছাড়া অন্য কোনো পক্ষের ডেলিগেট যেন প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য তারা গেইটে পাহারা বসায়। আমরা নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে। এতে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলায় আমরা সভাস্থলে প্রবেশ করতে না পেরে চলে আসি।’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরণ সাংবাদিকদের বলেন, ‘নেতাকর্মীদের নিয়ে আমি সভাস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করলে কামরুল হুদা পক্ষের লোকজন আমাকে লাঞ্ছিত করে এবং নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে। আমি মিলনায়তনে প্রবেশ করতে না পেরে স্থানীয় একটি মার্কেটের সামনে এসে নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করি। কিছুক্ষণ পর তারা সেখানেও আমার উপর হামলা করে।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কামরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সভা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মিলনায়তনের বাহিরে হিরন মোল্লার (সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরণ) লোকজন ইচ্ছে করেই ঝামেলা করতে এসে আমাদের লোকজনের সাথে মারামারিতে লিপ্ত হয়।’

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মো. হিলাল উদ্দিন জানান, বিএনপির সাংগঠনিক সভায় দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইত্তেফাক/এপি