যমুনা নদীর তীব্র পানির স্রোতে ভুঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক ভেঙে সকল ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৭টা ৩৫ মিনিটে ওই সড়কের ভুঞাপুর উপজেলার টেপিবাড়ি এলাকার সড়ক ভেঙে গিয়ে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ পাউবোর কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে সড়কটি বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে। সংশ্লিষ্টরা যদি ভাঙনরোধে পূর্বে উদ্যোগ গ্রহণ করতো তাহলে রোধ করা সম্ভব হতো। এরআগে ওই সড়কে দুপুর হতে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
এদিকে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম। এতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। বন্যাকবলিত মানুষজন গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির রেকর্ড করা হয়েছে। এতে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল বন্যার পানি প্রবেশ করে পৌরসভার টেপিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ভেঙে পড়েছে। ভাঙনের কারণে বিদ্যালয় মাঠ পুকুরে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বুধবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার তাড়াই এলাকার বাঁধ ভেঙে প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
তীব্র স্রোতে নদীর পানি প্রবেশ করায় ভেঙে গেছে বেশ কয়েকটি বসতভিটা। এতে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান দিয়ে পানি লিকেজ হওয়ায় হুমকিতে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫টি মাদরাসা ও ৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ২০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণের কথা জানালেও অধিকাংশ বানভাসি মানুষ ত্রাণ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আরো পড়ুন: গাইবান্ধায় ৪ লাখ পরিবার পানিবন্দি, ৪’শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধির ফলে অর্জুনা ইউনিয়নের তাড়াই বাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া ভাঙন অংশে পাউবো কাজ করছে।
টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পরিস্থিতি শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন অংশে ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআর
