তাদের কেউ চিকিত্সক, কেউ মেডিক্যাল শিক্ষার্থী। পড়াশোনা, চিকিত্সা পেশার পাশাপাশি তারা কাজ করছেন দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়। বলছিলাম ‘হার্ট টু হার্ট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ’ সংগঠনের সদস্যদের কথা। এর ফাউন্ডার ফাহাদ মুনতাসির। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু হয় এই সংগঠনটির। এর কো-ফাউন্ডার ছিলেন ডা. মুস্তাকিম বিল্লাহ।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ফাহাদ জানালেন বিভিন্ন হাসপাতালের সার্বিক অব্যবস্থাপনা, মেডিসিন, রক্তের অপ্রতুলতার কথা মাথায় নিয়ে যাত্রা শুরু করে হার্ট টু হার্ট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ। তারা গত ছয় বছরে ৮৮টি হেলথ ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিত্সা সেবা দিয়েছে ৩৪টি জেলার ১ লাখ ৩০ হাজারের অধিক মানুষকে। ৫০ হাজারের অধিক শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। এ ছাড়া ৫০ জন মানুষের অপারেশন সহায়তাও এগিয়ে এসেছে তারা। করেছে ১০ জন মেধাবী দরিদ্র মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থাও। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন হেলথ ক্যাম্প ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এ সংগঠনের সদস্যরা।
শুধু হেলথ ক্যাম্পেই সীমাবদ্ধ নয় তাদের কার্যক্রম। বিভিন্ন মেডিক্যাল বিষয়ক সেমিনার, নারী অধিকার রক্ষায় সিম্পোজিয়াম, অটিজম বিষয়ক কর্মশালা, বাচ্চাদের স্কুলে সঠিক প্যারেন্টিং, বয়ঃসন্ধি নিয়ে আলোচনা ইত্যাদি নিয়মিত আয়োজন করে চলেছে এই সংগঠন। ‘কোপিং আপ উইথ মেডিক্যাল লাইফ’, ‘অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট অ্যাডিকশন’, ‘ইয়ুথ লিডারশিপ ক্যাম্প’, ‘ভয়েস ফর চিল্ড্রেন, ‘রোড টুওয়ার্ডস পিস অ্যান্ড পজিটিভিটি’, ‘ক্যারিয়ার সিম্পোজিয়াম’, ‘মিট দ্য চ্যালেঞ্জ উইথ মেডিক্যাল লাইফ’, ‘ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অন উইমেনস হেলথ লাইফস্টাইল অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট’ ইত্যাদি শিরোনামের সেমিনার আয়োজন করেছে। ফাহাদ ইচ্ছা প্রকাশ করলেন ভবিষ্যতে মেন্টাল হেলথ নিয়ে আরও বেশি কাজ করার। তিনি বললেন, ‘হেলথ ক্যাম্পের মাধ্যমে একদিনে প্রচুর রোগী দেখার সুযোগ পান চিকিত্সকরা। যার মাধ্যমে ক্লিনিক্যাল স্কিল বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ হয়।’ স্বপ্ন দেখেন, উন্নত বিশ্বের মতো ওয়েল ইক্যুইপড মেডিক্যাল ভ্যান ও রেসকিউ ভেহিকলের। যেগুলোর মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবেন তারা।
