ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা
মো: কবির হোসেন (সুজন), প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ
নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, ঢাকা
প্রিয় একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীবৃন্দ শুভাশিস রইল। তোমাদের জন্য ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের ২য় পত্র হতে একটি উদ্দীপক এবং উদ্দীপকের আলোকে উত্তর প্রদান করা হলো।
উদ্দীপক: মোহাম্মদ শাহাজাহান একটি স্বনামধন্য কোম্পানীর মহা-ব্যবস্থাপক। তাদের কোম্পানীর কাজ হলো কৌশলে মানবীয় গুণাবলীর সমন্বয়ে কর্মীদের নিকট হতে কাজ আদায় করে নেয়া। তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংগ্রহ হতে শুরু করে প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন পর্যন্ত সকল কাজ স্বচ্ছতার সহিত সম্পাদন করা হয়। এই জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট লক্ষ্য কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছে।
ক) পরিকল্পনার অভিপ্রেত ফলকে কী বলা হয়?
খ) স্থায়ী পরিকল্পনা বলতে কি বোঝায়?
গ) উদ্দীপকে স্বচ্ছতার সহিত কাজ করা ব্যবস্থাপনার কোন কাজকে ইঙ্গিত করে? আলোচনা কর।
ঘ) প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য ও কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছে বলতে কি বোঝানো হয়েছে? তোমার মতামত দাও।
উদ্দীপকের ক নং প্রশ্নের উত্তর: পরিকল্পনার অভিপ্রেত ফলকে লক্ষ্য বলা হয়।
উদ্দীপকের খ নং প্রশ্নের উত্তর: যে পরিকল্পনা একবার গ্রহণ করার পর অপরিবর্তিত অবস্থায় তা বারবার ব্যবহূত হয় তাকে স্থায়ী বা চলমান পরিকল্পনা বলা হয়।
একই ধরণের সমস্যা বা অবস্থা মোকাবেলার জন্য এই ধরণের পরিকল্পনা প্রণীত হয় এবং বারবার তা ব্যবহূত হয়। ফলে নতুন পরিকল্পনা তৈরির ঝামেলা ও ব্যয় হতে প্রতিষ্ঠান রক্ষা পায়। এই ধরণের পরিকল্পনা নীতি বা গাইড লাইন, প্রক্রিয়া বা প্রণালী পদ্ধতি এবং কৌশল এই চার ধরণের হতে পারে।
উদ্দীপকের গ নং প্রশ্নের উত্তর: উদ্দীপকে ব্যবস্থাপনার কাজ কর্মীসংস্থানকে নির্দেশ করে।
প্রতিষ্ঠানের জন্য দক্ষ জনবল গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্মী সংগ্রহ, কর্মী নির্বাচন, প্রশিক্ষণ, বদলি, পদোন্নতি,পদাবনতি ও উন্নয়ন কাজের সমষ্টিকে কর্মী সংস্থান বলা হয়।
সাধারণ অর্থে প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত কর্মী জোগাড় করাকে কর্মীসংস্থান বলা হয়। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে কর্মী সংগ্রহ হতে শুরু করে উন্নয়ন পর্যন্ত সকল কাজই হলো কর্মী সংস্থান। উপরের উদ্দীপকে স্বচ্ছতার সহিত কর্মী সংগ্রহ হতে শুরু করে প্রশি্ক্ষণ ও উন্নয়ন বলতে কর্মী সংস্থানের কথা বলা হয়েছে। কর্মীসংস্থান বা জনশক্তি ব্যতীত কোন প্রতিষ্ঠানই চলতে পারে না।
উদ্দীপকের ঘ নং প্রশ্নের উত্তর: উদ্দীপকে নেতৃত্বের কথা বলা হয়েছে।
নেতৃত্ব হচ্ছে কর্মীদেরকে প্রভাবিত করার পদ্ধতি ও কৌশল যাতে তারা ঐচ্ছিকভাবে দলীয় লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হয়। অর্থাত্ এটি অধীনন্থ কর্মীদের সুষ্টুভাবে পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে লক্ষ্য অর্জনের কৌশল বিশেষ।
উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছে বলতে নেতৃত্বের কথা বলা হয়েছে। নেতৃত্বের মধ্যে যেমন একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে সেই লক্ষ্যের আবার একটি নির্দিষ্ট কৌশল বা গুণও থাকে। আর এই লক্ষ্যে কৌশলে একজন নেতা এগিয়ে যায়। আর এ্ই কাজ যেমন কর্মীকে উত্সাহিত করে তেমনি কর্মী থেকে দিক নির্দেশনা পায়।
নেতৃত্ব ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটি যেমনি কর্মীদের প্রেষণা দান করে তেমনি কর্মীদের মনোবল উন্নয়ন এবং সামাজিক দায়িত্বও পালন করে থাকে। তবে নেতার ব্যক্তিগত চিন্তা-চেতনা, বিশ্বাস-মূল্যবোধ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, অধস্তনদের মান প্রভৃতি পার্থক্যের কারণে নেতৃত্ব বিভিন্ন ধরণের হয়। ধধধ
