উপড়ে পড়ছে গাছ ও বিদ্যুতিক খুঁটি

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯, ২০:৫৯

কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক

ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল

 কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা

কাপ্তাই উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির সাথে ঝড়ো বাতাস হলেই কাপ্তাই সড়কের পাশে পাহাড়ের পাদদেশে লাগানো গাছপালা এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ছে। গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে পাহাড়ের মাটিও ধসে পড়ে সড়কের ওপর। এতে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে প্রায়ই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৫ দিনে অন্তত ৬ বার বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর পাহাড় ধসে এবং গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল লতিফ জানান, একবার সড়কের ওপর পাহাড় ধসে পড়লে এবং গাছ ও খুঁটি উপড়ে পড়লে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গত ৭ জুলাই, ৯ জুলাই, ১৩ জুলাই এবং সর্বশেষ ১৭ জুলাই কয়েক স্থানে গাছপালা ও খুঁটিসহ বড় ধরনের পাহাড় ধস হয়। পাহাড় ধসের ফলে যান চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলেও তিনি জানান।

কাপ্তাই বিএন স্কুল ও কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, পাহাড় ধস হলেই সড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। এরকম পরিস্থিতিতে কাপ্তাই জেলা নৌ স্কাউটসের পক্ষ থেকে একাধিকবার সড়ক পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। অবশ্য উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার ব্রিগেড, পুলিশ ফোর্স এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ভূমিকা রাখেন বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশ্রাফ আহমেদ রাসেল জানান, কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কটির বেশিরভাগ অংশ একেবারে পাহাড় ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে। এই পাহাড়ের পাদদেশেই বিভিন্ন গাছপালা রোপণ করা হয়েছে। এর পাশেই বসানো হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। বৃষ্টির সাথে বাতাস হলে একটি স্থানে যদি গাছ উপড়ে পড়ে সাথে সাথে বৈদ্যুতিক খুঁটিও উপড়ে পড়ে। গত কয়েক দিনে কাপ্তাই সড়কের ওপর একাধিকবার গাছপালা ও বৈদ্যুকি খুঁটি উপড়ে পড়ে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় বলেও তিনি জানান। অবশ্য প্রশাসন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয় বলেও তিনি জানান।

কাপ্তাই বিদ্যুত্ বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই সড়ক ঘেঁষেই বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো হয়েছে। তাই বিভিন্ন সময়ে গাছপালা উপড়ে পড়লে অথবা পাহাড় ধস হলে বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ক্যাবলগুলো মাটির নিচ দিয়ে নেওয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলে আলোচনা চলছে বলে বিদ্যুত্ বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে।