স্পোর্টস ডেস্ক
হাজার হাজার নিউজিল্যান্ড সমর্থকের হূদয় ভেঙে দিয়ে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসিয়েছেন তিনি। অথচ ২৮ বছর বয়সী বেন স্টোকস কি না এবার বর্ষসেরা নিউজিল্যান্ডার পুরস্কার পাওয়ার জন্য মনোনীত হয়েছে। বেন স্টোকসের জন্ম নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। বাবা-মা দুই জনই নিউজিল্যান্ডের বাসিন্দা। কিন্তু বেন স্টোকসের বয়স যখন মাত্র ১১ তখন একটা রাগবি দলের কোচের চাকরি পাওয়ায় বাবা পুরো পরিবার নিয়ে চলে আসেন ইংল্যান্ডে। এরপরের সময়টা তাই ইংল্যান্ডের জল-হাওয়াতেই বেড়ে ওঠেন স্টোকস।
গেল ১৪ জুলাই, লর্ডসে তার ৮৪ রানের ইনিংসের ওপর ভিত্তি করেই ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপ জয় করে ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় মিডিয়া গতকাল শুক্রবার স্টোকসের মনোনয়ন পাওয়ার খবর প্রকাশ করেছে। যদিও এই পুরস্কার পাওয়ার জন্য স্টোকসকে লড়তে হবে স্বয়ং ব্ল্যাক ক্যাপ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে।
স্টোকসকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রসঙ্গে বর্ষসেরা নিউজিল্যান্ডার নির্বাচন কমিটির প্রধান ক্যামেরন ব্যানেট বলেন, ‘এখন হয়ত ও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলে, তবে তার জন্ম, বেড়ে ওঠা ক্রাইস্টচার্চে। তার পরিবার এখনো এখানেই থাকে। তাই নিউজিল্যান্ডের বেশিরভাগ মানুষ এখনো তাকে নিজেদের লোক মনে করেন। আমরাও তাই সেভাইে ভাবতে চাই।’
যদিও স্বাভাবিকভাবেই এই পুরস্কার জয়ের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন কেন উইলিয়ামসন। তার ব্যাপারে ক্যামেরন ব্যানেট বলেন, ‘সেরা নাগরিক হওয়ার যত গুণাবলি থাকা দরকার তার সবকিছুই উইলিয়ামসনের মধ্যে আছে। ও সততা, সাহসিকতা ও মানবিকতায় পরিপূর্ণ একজন ব্যক্তি।’
তবে যেই এই পুরস্কার পান না কেন অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। গত এক জুলাই থেকে মনোনয়ন দেওয়া শুরু হয়েছে। এটা চলবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে ডিসেম্বরে একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেখান থেকে নির্বাচিত হবে চূড়ান্ত বিজয়ী।
ক্রীড়াবিদ হিসেবে সর্বশেষ এই পুরস্কার জিতেছিলেন দেশটির রাগবি দলের সাবেক অধিনায়ক রিচি ম্যাককাও। ২০১৫ সালে দেশকে রাগবি বিশ্বকাপের শিরোপ এনে দেওয়ার পর ২০১৬ সালে তিনি এই পুরস্কার জিতে নেন।
