আমনের বীজতলা নষ্ট তলিয়ে গেছে আউশ

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯, ২১:৪১

বন্যার পানিতে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আমন ধানের চারা সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া অনেক জমির আউশ ধান তলিয়ে গেছে। গত আমন ও বোরো ধানে লোকসান হওয়ার পর এখন বন্যার পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। ফলে চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে বন্যায় কমপক্ষে ২০টি জেলা প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে শস্যভাণ্ডারখ্যাত উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ জেলা রয়েছে। এসব জেলায় বিশেষ করে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, যেসময় মাঠে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। তখন হঠাত্ এই বন্যায় বীজতলা ডুবে সব চারা নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, এখনো পানির নীচে জমি। জমি থেকে পানি কবে নামবে, কোথায় বীজতলা তৈরি করা হবে। সেসব নিয়ে কৃষক দুশ্চিন্তায় পড়েছে। অনেক কৃষক বন্যাকবলিত এলাকায় মাটি দিয়ে ভাসমান বীজতলা করে চারা সংকট নিরসনের চেষ্টা করছেন। দ্রুত বন্যার পানি না কমলে বড়ো ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন তারা।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সারাদেশে ৫৬ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত মৌসুমে তা ছিল ৫৫ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত আমন ও বোরো মৌসুমে কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য পাননি। এখন আমন মৌসুমের শুরুতেই যদি ধাক্কা খায় তাহলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়বে। কারণ, চাষিরা মহাজনের কাছ থেকে চড়াসুদে ঋণ করে ফসল ফলান।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, পরপর কয়েক বছর ধানের বাম্পার ফলনের ফলে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। কিন্তু কৃষকের জীবনমানের কোনো উন্নতি নেই।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, এবারের বন্যায় সবজি খেতের পাশাপাশি বেশি ক্ষতি হয়েছে আমনের বীজতলার। এর মধ্যে নীলফামারীতে বন্যার পানিতে প্রায় ১১৮ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এসব জমিতে আউশ ধান ছিল। গাইবান্ধায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৬৪৭ হেক্টর জমির ফসল। এর মধ্যে ২৩০ হেক্টরের আউশ ধানের খেত, প্রায় ২০০ হেক্টরের বীজতলা, ৬৭ হেক্টরের পাট এবং ১৫০ হেক্টর বিভিন্ন সবজি খেত পানিতে ডুবে গেছে। লালমনিরহাটের দুই দফা বন্যায় ৩২৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে রয়েছে আমন বীজতলা, ভুট্টা, পাটখেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমি। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়। কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় এই জেলার ৯ উপজেলার প্রায় ১৪০০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে ধানের খেত ও আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর বগুড়ায় তিন উপজেলায় আমনের বীজতলাসহ ৮ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও সিরাজগঞ্জে চরাঞ্চলের ফসলি জমি ও হাট-বাজার এখনো পানির নীচে। সিরাজগঞ্জ কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, বন্যার পানিতে এই জেলার প্রায় ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে আউশের খেত, আমনের বীজতলা ও সবজি খেত রয়েছে। এ অবস্থায় মাঠের ফসল ও বীজতলা হারিয়ে এখন দিশেহারা কৃষক।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, বন্যা পরবর্তী সময়ে আমনের চাষ নিশ্চিত করতে কৃষকদের ধানের চারা প্রদানসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বন্যায় ফসলের ক্ষতি প্রসঙ্গে সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেছেন, এখন মাঠে উল্লেখযোগ্য বড়ো ফসল নেই। তাই বড়ো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তারপরও বন্যা পরবর্তী ক্ষতি নিরূপণ করে কৃষকের পাশে থাকবে সরকার।