চরফ্যাশনে বারি-৬ মুগ ডাল চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

কম উৎপাদন খরচে ভালো ফলন, চাহিদা বেশি

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ১৯:১০

ভোলার চরফ্যাশনে বারি-৬ জাতের মুগডাল চাষে ঝুঁকছেন কৃষক। উচ্চ ফলনশীল জাতের এই বীজ চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন তারা। উপজেলায় এবার মুগ ডালের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. মহসিন জানান, পাঁচ বিঘা জমিতে বারি মুগ-৬ চাষ করেছেন। এতে তিনি সাফল্য পেয়েছেন। উচ্চ ফলনশীল এই বীজে ফলন বেশি। উৎপাদন খরচ কম এবং চাহিদাও বেশি। এবছর ডাল চাষে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। কিন্তু তিনি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। 

কৃষক মো. ছাদেক জানান, চার বিঘা জমিতে বারি-৬ জাতের মুগ ডাল চাষ করেছেন এতে তিনি সাফল্য পেয়েছেন। এবছর ডাল চাষে তার খরচ হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। কিন্তু তিনি প্রায় ১ লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। ১কৃষক মহসিন ও ছাদেক জানান, ডাল চাষ শুরুর আগে তারা কৃষি অফিসের পাশাপাশি পল্লী-কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে স্থানীয় এনজিও পরিবার উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় ডাল ফসল উৎপাদন, বীজ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, লবণাক্ততার জন্য পতিত থাকা জমিতে এবার বারি মুগ-৬ ডালের চাষ করেছেন তারা। এ ডালের চাহিদা থাকায় চরফ্যাশন উপজেলায় এর আবাদ বেশি হয়েছে। ফলন আসার পরে তিন-চার বার মুগ ডাল উত্তোলন করা যায়। ডাল উত্তোলনে পুরুষদের পাশাপাশি গ্রামের কৃষক পরিবারের নারীরাও শ্রম দিচ্ছেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মুগ তোলেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ কম, ফলন এবং লাভ বেশি হওয়ায় নতুন নতুন কৃষি উদ্যোক্তারা এডাল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এছাড়া পল্লী-কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা উদ্যোক্তা সদস্যদের মাঝে প্রক্রিয়াজাতকরণের মেশিন বিতরণের ফলে ডাল মাড়াই এবং ভাঙানোতে শ্রমিক কম লাগে। এতে সময় এবং অর্থ সাশ্রয় হয়।

পরিবার উন্নয়ন সংস্থার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, মুগডাল অত্যন্ত কম সময়ের ফসল। এই ডাল আবাদ করলে মাত্র দুই মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। ডাল ফসল শেকড়ের গুটির মাধ্যমে বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেন আবদ্ধ করে মাটির উর্বরতা বাড়ায়। ফলে পরবর্তী বছরে জমিতে ইউরিয়া সারের পরিমাণ কম লাগে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর চরফ্যাশন উপজেলায় ১১ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে মুগডাল চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৩১০ হেক্টর।

চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, কৃষি বিভাগের পাশাপাশি পরিবার উন্নয়ন সংস্থা কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেওয়ায় উচ্চ ফলনশীল জাতের বারি মুগ-৬ এর বাম্পার ফলন হয়েছে। এ মুগে পোকার আক্রমণ হয় না। স্থানীয় জাতের তুলনায় বারি মুগ-৬ জাতে তিন গুণ বেশি ফলন পাওয়া যায়। মুগ ডাল তোলার পর মুগের গাছ ও পাতা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে জমিতে জৈব সার তৈরি হয়। পরে ফসলের ভালো ফলন পাওয়া যায়। ডাল চাষে অন্য যে কোনো ফসলের তুলনায় সেচ ও সার কম প্রয়োগ করতে হয়। তাই মুগ ডাল চাষ করে কৃষক একদিকে যেমন পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারবে, অন্যদিকে বাজারে বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন।

ইত্তেফাক/এসএএস