নাথেরপেটুয়া রেল স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ শ্রমিকের হাট

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৫, ১৬:৫৭

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে জমে উঠেছে শ্রম বেচাকেনার ভ্রাম্যমাণ হাট। জীবিকার জন্য কাজ খুঁজতে আসা মানুষের আনাগোনায় মুখরিত মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া রেলওয়ে স্টেশন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকদের পাওয়া যায় এ হাটে। এ শ্রমিকদের কাজে লাগিয়ে এখানকার কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তোলেন। বোরো মৌসুমে এ অঞ্চলে শ্রমিকের চাহিদার প্রায় ৫০ ভাগ পূরণ হয় অন্য জেলার শ্রমিক দিয়ে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নাথেরপেটুয়া রেলওয়ে স্টেশনে কয়েক শ শ্রমিক ভার, কাস্তে ও ব্যাগ নিয়ে কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফরম জুড়ে জটলা পাকিয়ে কাজের অপেক্ষা করছেন তারা। এদের মধ্যে নানা বয়সের শ্রমজীবী মানুষ রয়েছে। শ্রমিক খুঁজতে আসা কৃষকরাও হাটে এসে পেয়ে যান তাদের কাঙ্ক্ষিত শ্রমিক। দরদাম মিললেই নিয়ে যান বাড়ি। এভাবেই চলছে এখানে শ্রম বেচাকেনা। শ্রমিকদের অধিকাংশই রাতে স্টেশনের প্ল্যাটফরমে রাত্রিযাপন করার কথা জানান। কাজের সন্ধান পেলেই চলে যান মালিকের সঙ্গে। নীলফামারীর সিরাজুল, গাইবান্ধার মালেক সরদার, লালমনিরহাটের রফিকুল, দিনাজপুরের খালেক, ঠাকুরগাঁওয়ের সামছুদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হলে বোরো ধান ওঠা পর্যন্ত এ এলাকায় অবস্থান করার কথা জানান।

যখন যে এলাকায় কাজের চাহিদা থাকে এ হাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমের শুরুতে কাজের খোঁজে যান তারা। এদের অধিকাংশই কৃষিকাজ করেন। নিজের এলাকায় এ সময় কোনো কাজ না থাকায় একটু বাড়তি রোজগারের আশায় তারা এ হাটে আসার কথা জানান। জনপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মাইনে পান একদিন কাজ করে। কেউ কেউ দুই-তিন মাস পর্যন্ত একটানা কাজ করেন। মৌসুম শেষে টাকা জমিয়ে তারপর বাড়ি যান।

উপজেলার সরসপুর এলাকার কৃষক সাইদ আলী জানান, নিজেদের কর্মব্যস্ততা থাকায় বিশেষ করে বোরো মৌসুমে এলাকার স্থানীয় শ্রমিক খুব একটা পাওয়া যায় না। এ মৌসুমে দূরদূরান্ত থেকে আসা শ্রমিকের ওপরেই ভরসা রাখতে হয়। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়ার কথা জানান তিনি। এ শ্রমিকদের মাথাপিছু খরচ একটু বেশি হলেও কাজেও সাশ্রয় হয়, একটানা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার তুষার জানান, বোরো মৌসুমে এ এলাকায় শ্রমিকের চাহিদা মেটাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা কাজ করছেন। শ্রমিকের চাহিদার প্রায় ৫০ ভাগ জোগান হচ্ছে বাহির থেকে আসা শ্রমিক দিয়ে। এবার এ উপজেলায় ৯ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের কথা জানান তিনি। আবাদকৃত জমির ৯৫ শতাংশই হাইব্রিড জাতের ধান।

ইত্তেফাক/এসএএস