মুন্সীগঞ্জ জেলার সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম প্রতিষ্ঠান শিল্পকলা একাডেমির জরাজীর্ণ অবস্থা ও অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষুব্ধ জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীরা। ভাঙা চেয়ার, বিকল সাউন্ড সিস্টেম, বিকল ফ্যান, বিকল জেনারেটর, ব্যবহারের অযোগ্য টয়লেট, আলোকসজ্জার ঘাটতিসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত একাডেমিটি এখন সংস্কৃতিচর্চার জন্য বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিল্পীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সমস্যাগুলো থেকে গেলেও সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ আজও নেওয়া হয়নি। একাডেমির অডিটোরিয়াম ব্যবহার করতে হলে বাইরে থেকে অতিরিক্ত খরচ করে সাউন্ড, লাইট, ফ্যান, পর্দা ইত্যাদি ভাড়া করতে হয়।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অভিজিৎ দাস ববি বলেন, ‘এ জেলার শিল্পীরা ঢাকাসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম কুড়ালেও জেলা শিল্পকলা একাডেমির নাজুক অবস্থার কারণে নতুন শিল্পী তৈরি হচ্ছে না। মঞ্চ, চেয়ার, ব্যাক স্ক্রিন, ফ্যান-সবকিছুই ভাঙাচোরা। নাটক মঞ্চায়নের জন্য জায়গাটি আদৌ উপযুক্ত নয়।’
মুন্সীগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ঢালী বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, টয়লেট নষ্ট, পারটেক্স ভেঙে গেছে, স্ট্যান্ড ফ্যান ভেঙে চুরমার। চার ভাগের এক ভাগ চেয়ার বসার উপযুক্ত রয়েছে। পুরো পরিবেশটাই হতাশাজনক।’
শিল্পকলার কোনো সাউন্ড সিস্টেম নেই, কোনো প্রোগ্রাম করতে হলে বাইরে থেকে সাউন্ড বক্স ভাড়া করে আনতে হয়। সরকারি প্রোগ্রাম বা জেলা প্রশাসকের নিজস্ব প্রোগ্রাম করলেও তাও বাইরে থেকে লাইট ভাড়া করে আনতে হয়। বিদ্যুৎ জেনারেটরটাও ১০ বছর যাবৎ নষ্ট হয়ে আছে। শিল্পকলার অডিটোরিয়ামের পেছনের ব্যাক স্ক্রিনের সাদা পর্দাটা পুরোনো হয়ে ছিঁড়ে গেছে।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির দায়িত্বপ্রাপ্ত কালচারাল অফিসার মো. এরশাদ হাসান বলেন, ‘একাডেমিতে প্রচণ্ড লোকবলের সংকট। কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই, বাইরে থেকে ভাড়া করে আনতে হয়। ইতিমধ্যে গণপূর্ত বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং তা দ্রুতই উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হবে।’
সংস্কৃতি কর্মীদের মতে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রশাসন, শিল্পী, প্রশিক্ষক ও সংস্কৃতি বিভাগের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকাটাও একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, দ্রুত নির্বাচিত কমিটি গঠন করে সংস্কৃতিচর্চার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা হোক।
