কামরুলের শখের বাগান নজর কাড়ছে অনেকের

আছে চার শতাধিক জাতের ফল ও ফুলের গাছ 

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৪৭

মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েও প্রকৃতিপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কামরুল এহসান চন্দন। ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নিজের বাড়ির সামনে মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন এক চমৎকার শখের বাগান, যা এখন এলাকাবাসীর আগ্রহের কেন্দ্র। শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা ও ব্যবসার পাশাপাশি প্রকৃতিকে ভালোবেসে তৈরি করা এ বাগান ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ছবি: ইত্তেফাক

চন্দনের বাগানে রয়েছে-ঔষধি ও বিদেশি ফল, ফুল, অ্যাভোকাডো, রামবুটান, তিন ফল, পার্সিমন, ননিফল, করোসল, যাবোটিকাবা, আম, লিচু, পেয়ারা ও অ্যাডেনিয়াম, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাস, সাকুলেন্টসহ দেশি-বিদেশি চার শতাধিক ফল ও ফুলের গাছ।

বাগানের পশাপাশি রয়েছে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ, কবুতর, দেশি মুরগি, নানা জাতের শাকসবজি, দেশি-বিদেশি ফল, ফুলসহ ঔষধি গাছ। বাগানে গেলেই চোখে পড়ে এ মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য।

বাগানের স্বত্বাধিকারী কামরুল এহসান চন্দন জানান, ছোটকাল থেকেই তার বাগান করার শখ ছিল। সেই থেকেই তার বাগান করার স্বপ্ন জাগে। কলেজে শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা ও ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি শখ বাস্তবায়নে গড়ে তোলেন এ শখের বাগান। হঠাৎ তিনি ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এ অবস্থায় ডাক্তাররা সুস্থ হতে ওষুধের পাশাপাশি তাকে কঠোর পরিশ্রমের পরামর্শ দেন।

ছবি: ইত্তেফাক

বাগান তৈরির তার এ কাজকে তার সহধর্মিণী সাবিহা সুলতানা লাকি প্রথমে ভালোভাবে না নিলেও এখন তাকে বাগান পরিচর্যায় সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে এখন বাগানে সহযোগিতা করি। সুন্দর বাগান দেখে এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরাও খুশি।’

তার বাগান দেখে ভালুকা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি পরিবেশবিদ মতিউর রহমান জগলু বলেন, ‘যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে ভালুকায় শিল্পায়ন হচ্ছে, সেখানে প্রকৃতি রক্ষায় চন্দনের এ উদ্যোগ আগামী প্রজন্মের মধ্যে উৎসাহ জোগাবে।’

ভালুকা উপজেলা কৃষি বিভাগ ও কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নুসরাত জামান তার এ কাজে জৈবসার তৈরিসহ পরামর্শ ও নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

ইত্তেফাক/এসএএস