জামিউল আহসান সিপু
ছয় মাস আগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে রিকশা ভ্যানচালক ইসমাইল ফরাজি (৫৫) খুনের সঙ্গে ১৪-১৫ বছরের এক কিশোর জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও সেই কিশোরকে পুলিশ এখনও শনাক্ত করতে পারেনি। পুলিশ এ ঘটনায় কমলাপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে অন্তত ২০/২৫ জন ভবঘুরে কিশোরকে আটক করে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সামনে হাজির করে। তবে পুলিশের আটককৃত কিশোরদের মধ্যে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরের চেহারার মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। মামলা তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, ‘আমরা অজ্ঞাত ওই কিশোরকে এখন খুঁজছি।’
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২২ জানুয়ারি উত্তর যাত্রাবাড়ীর ১/১-ডি, পাঁচ তলা বাড়ির তৃতীয় তলার দক্ষিণ পাশের ফ্ল্যাট থেকে ভ্যানচালক ইসমাইল ফরাজি’র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ফ্ল্যাটে ইসমাইল ফরাজি তার স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। ছোট ছেলে নাজমুল ফরাজি গ্রামের বাড়িতে থাকতো। ঘটনার দশ দিন আগে ইসমাইলের বাবা অসুস্থ হওয়ায় স্ত্রী আক্তারা বেগমকে গ্রামের বাড়ির গাজীপুরের কালীগঞ্জে পাঠিয়ে দেন। বাসায় তিনি তার বড় ছেলে নাদিম ফরাজিকে (২৫) নিয়ে থাকতেন।
নাদিম ফরাজি বলেন, তার বাবা যাত্রাবাড়ী এলাকার ফার্নিচারের দোকান থেকে ফার্নিচার রিকশাভ্যানে করে বিভিন্ন বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন। রিকশাভ্যান ঠেলার জন্য ১৪-১৫ বছরের এক কিশোরকে সঙ্গে রাখতেন। ওই কিশোর তার বাবার সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমাতেন। তিনি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে পিয়ন পদে চাকরি করেন। ২২ জানুয়ারি তার বাবা ওই কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে বাসা থেকে বের হন। ওই দিন রাত পৌনে ৮ টার দিকে তিনি অফিস থেকে বাসায় ফিরে দেখেন, তার বাবার কক্ষের দরজা খোলা। ভেতরে ঢুকে দেখতে পান খাটের নিচ থেকে তার বাবার একটি হাত বের হয়ে আছে। তিনি মৃতদেহ টেনে বের করেন। দেখতে পান, তার বাবার গলায় গামছা েঁপচানো। ডান চোখের ওপর জখমের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর নিহতের ছেলে নাদিম ফরাজি অজ্ঞাত ওই কিশোরকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
এ ব্যাপারে যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি (বর্তমানে সূত্রাপুর থানার ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, ঘটনার পরপর ওই ফ্ল্যাটে তদন্ত করে দেখা যায় যে, নিহতের ঘরে রাখা ট্রাঙ্কের তালা ভাঙ্গা ছিল। নিহত ইসমাইল ফার্নিচারের দোকান বা কারখানা থেকে ফার্নিচার নিয়ে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতেন। অনেক সময় বাকিতে বিক্রি করা ফার্নিচার হোম ডেলিভারি দেওয়ার পর টাকা তার কাছে পরিশোধ করতেন ক্রেতা। ওই টাকা অনেক সময় বাসার ট্রাঙ্কে রেখে দিতেন। এ বিষয়টি হয়তো অজ্ঞাত ওই কিশোর টের পেয়ে খুনের পরিকল্পনা করতে পারে। তবে তাকে আটক করা গেলে, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগ মামলাটি এখন তদন্ত করছে। অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পূর্ব) আসাদুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে তদন্তে অগ্রগতিমূলক তেমন কিছু মিলেনি।
