মিসডকলে পণ্য পৌঁছান প্রতিবন্ধী ভুট্ট

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ১৯:৫৩

মিসডকলে বিভিন্ন দোকানে দোকানে পণ্য পৌঁছান প্রতিবন্ধী ভুট্ট। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের ভুট্ট। জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী হয়েও হুইল চেয়ারে বসে এই দোকান ওই দোকানে মালামাল সরবরাহ করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। কোনো দোকানের মালামাল প্রয়োজন হলে মিসডকল দিলেই সে ছুটে যায় সেই দোকানির কাছে। তারপর চাহিদামতো পণ্যসামগ্রী হুইল চেয়ারে এনে দেন। এছাড়া প্রতিদিন উপজেলা শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার দোকানে পণ্য সরবরাহ করেন। এই কাজ করে প্রতিদিন ১শ’ ৫০ থেকে ২শ’ টাকা আয় করে চলছে তাঁর জীবন।

নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা শহরের মুন্সিপাড়ায় এক ভাড়া বাসায় থাকেন ভুট্ট। ২৫ বছরের এই যুবক জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী হলেও ভিক্ষার পথ বেছে নেননি। নবীর শিক্ষা ‘করো না ভিক্ষা’—এই অমিয় বাণী বুকে ধারণ করে জীবনে প্রথম কাজ শুরু করেন এক চানাচুর ফ্যাক্টরিতে। কয়েক বছর কাজ করেন সেখানে। সামান্য মজুরিতে কাজ করার পর আলাদা কিছু করার চিন্তা মাথায় আসে।

এ অবস্থায় উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে চলাচলের জন্য একটি হুইল চেয়ার মেলে তাঁর ভাগ্যে। নেমে পড়েন দোকানে দোকানে পণ্য সরবরাহের কাজে। মহাজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নেন সকালে মালামাল নেবেন আর সন্ধ্যার আগেই তাঁর টাকা পরিশোধ করবেন। মানবিক বিবেচনায় বড় বড় দোকানের মালিকরা রাজি হন। তাঁরা বাকিতে ডাল ভাজা, চানাচুর, হজমি, চকলেট, ঝুড়ি ভাজা, চিড়া ভাজা, চিপস, ললিপপসহ হরেকরকম মালামাল তাঁকে দিতে থাকেন। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এসব পণ্য সরবরাহ করে যাচ্ছেন তিনি।

ভুট্টর বাবা মোস্তফা ও মা শাহনাজ বেগম অনেক আগে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ৩ ভাই ১ বোনের পরিবারে অন্যান্য ভাইয়েরা ভালো থাকায় কাজ করে সংসার চালায় এবং আলাদা থাকেন। বোনের বিয়ে হয়েছে, কিন্তু স্বামী ঢাকায় থাকেন। ফলে বোন ও বৃদ্ধ নানি নিয়ে ভুট্টর সংসার। প্রতিদিনের সামান্য আয়ে অতিকষ্টে সংসার চলছে তাঁর। এই আয় থেকে প্রতিমাসে বাসার ভাড়া গুণতে হয় ১ হাজার ৫শ’ টাকা। তবে এই ব্যবসা করে ভুট্ট কিনেছেন ৬ শতক জমি।

প্রতিদিন সকালে ওঠে ভুট্ট পণ্য নিয়ে ছুটে চলেন এই দোকান ওই দোকান। মাঝেমধ্যে তাঁর মোবাইলে দেখে নেন মালামাল নেওয়ার জন্য কোনো দোকানি মিসডকল দিচ্ছেন কি-না। হুইল চেয়ারে বসে দোকানে দোকানে মালামাল সরবরাহ করাটা কতটা কষ্টের তা না দেখলে বোঝা যাবে না। জীবনযুদ্ধে প্রতিবন্ধী সৈনিক ভুট্ট ভুলে গেছেন বিয়ের কথাও। কারণ এ অবস্থায় তিনি ঝামেলা বাড়াতে চান না। পুঁজির অভাব ও দোকানদাররা বাকি ফেলার কারণে মাঝেমধ্যে তাঁর হুইল চেয়ারের চাকা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তখন বাড়িতে সকলকে উপোস থাকতে হয়।

এরইমধ্যে বাড়িতেই তৈরি শুরু করেছেন চাটনি। চলছেও ভালো। কিন্তু সরকারি অনুমোদন না থাকায় কোনো ব্যবসায়ী আর কিনতে চাইছেন না। ফলে বেকায়দায় পড়েছেন বলে জানান ভুট্ট।