আল-শারার সরকারের সঙ্গে ইসরায়েলের গোপন আলোচনা, চুক্তিতে যোগদানের সম্ভাবনা: রিপোর্ট

আপডেট : ১৬ মে ২০২৫, ১৭:৩৭

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১৪ মে) সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদান এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর একদিন পর বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ইসরায়েলি হিব্রু মিডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সিরিয়ার কর্মকর্তাদের সাথে গোপন আলোচনা করছে তেল আবিবের কর্মকর্তারা। সংবাদপত্রটির প্রতিবেদন অনুসারে, সিরিয়ার নতুন সরকারের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ নিউজ বলছে, এই আলোচনাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় পরিচালিত হচ্ছে।

আরেক মিডিয়া হারেটজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনাটি কাতারের মধ্যস্থতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং কয়েক মাস ধরে চলছে।

গত সপ্তাহে আল-শারা নিশ্চিত করেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে 'নিরাপত্তা-সম্পর্কিত' আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে তিনি সম্ভাব্য 'কূটনৈতিক সম্পর্ক' নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিলেন।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুসারে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আজারবাইজানে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন সেনাবাহিনীর অপারেশনস ডিরেক্টরেটের প্রধান মেজর জেনারেল ওদেদ বাস্যুক। তিনি নতুন সিরিয়ার সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন, যেখানে তুর্কি প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে গিয়ে বুধবার (১৪ মে) সৌদি আরবের রিয়াদে ট্রাম্প আল-শারাকে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের আহ্বান জানান। পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, শারা এই ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, 'আমি (শারাকে) বলেছিলাম, আশা করি তুমি (আব্রাহাম চুক্তিতে) যোগ দেবে, যখন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, এবং সে বলেছে, হ্যাঁ। কিন্তু তাদের অনেক কাজ করার আছে।' গত ২৫ বছরের মধ্যে মার্কিন-সিরিয়া প্রেসিডেন্টের মধ্যে এটি ছিল প্রথম সরাসরি আলোচনার।

হিব্রু মিডিয়া চ্যানেল ১২ আরও বলছে, সিরিয়ার ওপর থেকে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টিকে ইসরায়েল অনুকূলভাবে দেখছে, যদিও উচ্চ স্তরের সতর্কতা বজায় রেখে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিরিয়া সম্পর্কে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক দৃষ্টিভঙ্গি তার পূর্ববর্তী অবস্থানের সাথে বিপরীত।

চ্যানেল ১২ দাবি করেছে, ইসরায়েল এখন 'ইরানের তত্ত্বাবধান থেকে সিরিয়ার বেরিয়ে যাওয়া' এবং 'মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতার অধীনে আসার' সম্ভাবনা দেখছে। সেই সঙ্গে এই ধরনের সম্ভাব্য অগ্রগতি ইসরায়েল-তুরস্ক সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম বলেও মনে করে তারা।

লন্ডন টাইমস এই সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এবং উপসাগরীয় দেশগুলো সিরিয়াকে ইরানের প্রভাব থেকে দূরে সরিয়ে নিতে চাইছে। 'ইসরায়েলের ধ্বংসের' শপথ নেওয়া তেহরান বাশার আল-আসাদের প্রাক্তন শাসনকে সমর্থন করেছিল।

ইতিমধ্যে সিরিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে তুরস্ক এবং গৃহযুদ্ধের সময় শারা'র সাথে যুক্ত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করছে।

আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে, ইসরায়েল দেশজুড়ে প্রাক্তন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে গোলান মালভূমির সীমান্তের কাছে ইসরায়েলের স্থল বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ইত্তেফাক/এসকে