বাধ্যতামূলক ভ্যাট নিবন্ধনে আসছে ১৪৮ উত্পাদনকারী ও ব্যবসা

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ২১:৩৫

নতুন ভ্যাট আইনে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক বিক্রিকে (টার্নওভার) সরকার ভ্যাট অব্যাহতির তালিকায় রেখেছিল। এসব ব্যবসাকে ভ্যাট নিবন্ধন বা বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকেও রেহাই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন প্যাঁচে এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগকেই বাধ্যতামূলক ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর নিতে হবে। গতকাল রবিবার এনবিআরের ভ্যাট নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি আদেশে ৬২ ধরনের উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ৮৬ ধরণের  পণ্য ও সেবার ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে রাজধানীসহ দেশব্যাপী বহু ছোটো প্রতিষ্ঠানকেও নিবন্ধন নিতে হবে। ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়ার পর প্রতি মাসে বিক্রির হিসাব বা রিটার্ন সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিসে জমা দিতে হবে। ৫০ লাখ টাকার নিচে থাকা জেলা পর্যায়ের অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নতুন ভ্যাটব্যবস্থা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে,  কোন ব্যবসাকে কী হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে—এটি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন নতুন আদেশ জারির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পাইপ অ্যান্ড টিউবওয়েল মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক সোলায়মান ফারসী ফয়সাল। গতকাল ইত্তেফাককে তিনি বলেন, অনেক দোকান আছে, যাদের অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সক্ষমতা নেই। অনলাইনে নিবন্ধনের পর সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিস থেকে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আসবে। সব মিলিয়ে এর ফলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বাড়বে। আবার মাঠ পর্যায়ের ভ্যাট অফিসাররাও জানেন না, কী হতে যাচ্ছে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, নতুন আদেশ অনুযায়ী, সম্পূরক শুল্ক রয়েছে  এমন পণ্য আমদানিকারক ও উত্পাদকদেরও ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে এমন কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন নিতে হবে, যাদের টার্নওভার ৫০ লাখ টাকার নিচেই থাকবে।

আদেশ অনুযায়ী, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, তৈরি পোশাকের দোকান ছাড়াও সব ধরনের বিউটি পার্লার, স্বর্ণকার, রৌপ্যকার ও স্বর্ণের ব্যবসায়ীকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে। এ তালিকায় রয়েছে ডেকোরেটর ও ক্যাটারার্স, মোটরগাড়ির গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ, ডকইয়ার্ড, নির্মাণ সংস্থা, পণ্যাগার, বন্দর, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, ছাপাখানা, নিলামকারী সংস্থা, ভূমি উন্নয়ন সংস্থা, ভবন নির্মাণ সংস্থা, যানবাহন ভাড়া প্রদানকারীসহ ৮৬ ধরনের পণ্য ও সেবা ব্যবসায়ী এবং সরবরাহকারী। সিমেন্ট, সিরামিক, জিপি শিট, এমএস রড, সেনিটারি ওয়্যার, অ্যালুমিনিয়াম ফিটিংস, এসি, ফ্রিজ, টিভিসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রেতাকে নিবন্ধন নিতে হবে। এসব পণ্য জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের বিক্রেতা এ তালিকায় থাকবে। এছাড়া স্ক্র্যাপ ও এমএস রড ছাড়াও দুগ্ধজাত পণ্য, স্টার্চ, গাম, গ্লুকোজ, চকলেট, সুতা, কাপড়, মাছ ধরার জাল, ইট, সিরামিক পণ্যসহ ৬২ ধরনের পণ্য উত্পাদনকারীকেও নিবন্ধন নিতে হবে।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, ৫০ লাখ টাকার নিচে যাদের বিক্রি এমন বেশকিছু ব্যবসাও এ আদেশের ফলে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতায় আসবে। তবে জেলা ও উপজেল পর্যায়ের ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ছাড় থাকবে। ব্যবসায়ের হিসাবে স্বচ্ছতা আনার স্বার্থে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।