সিংগাইরের ফোর্ড নগর যেন গোলাপবাগান

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ২২:০০

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর গ্রামটি এখন গোলাপ বাগান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। এখানে যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই দেখা যায় গোলাপ বাগানের অপরূপ দৃশ্য। এখানে দিন দিন বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ ফুলের চাষ বাড়ছে। ফুল বিক্রি করে অনেকেই হয়ে উঠেছেন স্বাবলম্বী। অল্প খরচে বেশি লাভ তাই চাষিরা ঝুঁকে পড়েছেন এই গোলাপ চাষে।

বেকারত্বকে হার মানিয়েছেন অনেক যুবক। তার একজন হচ্ছেন রবিউল আওয়াল। আজ থেকে ১০ বছর আগে রবিউল আওয়াল ছিলেন ছোটোখাটো একজন মুদি ব্যবসায়ী। কিন্তু ব্যবসা খুব একটা ভালো চলছিল না। সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকত। ধারদেনা করে চলতে হতো। অন্য কি ব্যবসা করবেন তাও ভেবে পাচ্ছিলেন না সাভার কাতলাপুর গ্রামের আওয়াল নামে এই যুবক। এলাকার অনেকেই ফুলের ব্যবসা করেন এবং তারা ভালোই আছেন। এটা করলে কেমন হয়।  হঠাত্ করেই এমনটা ভেবে আওয়াল তাদেরই একজনের কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ৫২ শতাংশ জমি কটে নিয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর এলাকাতে বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ ফুলের চাষ শুরু করে দিলেন। দেখা গেল শুরুতেই বাজিমাত। প্রচুর লাভ। আস্তে আস্তে  লাভের অংশ বেড়ে যাওয়ায় ঐ টাকায় আরো জমি কটে নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। বর্তমানে ২৬০ শতাংশ জমি কটে নিয়ে ফুলের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এখন তার এই সুন্দর মেরেন্ডা জাতের গোলাপ ফুল বাগান দেখতে অনেকেই ভিড় করেন।

আওয়াল  জানান, জমিতে নিরানি, সার, কীটনাশক দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হলেও লাভ হয় ১ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। অল্প পুঁজিতে ঝামেলা ছাড়াই যা অন্য কোনো ব্যবসায় এতো লাভ করা যায় না।  ৫ বছরের জন্য মাত্র ১২ হাজার টাকা হলে ২৬ শতাংশ জমি কটে নেওয়া যায়। কটের মেয়াদ ৫ বছর শেষে হলে নতুন করে আবার চুক্তিপত্র করতে হয়। আবার সুবিধা একটাই তা হচ্ছে একবার গাছ রোপণ করলে ২০ বছরের মধ্যেও আর রোপণ করতে হয় না যদি কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়। তবে প্রতিবছর গাছ ছেটে দিতে হয়। সেই গাছ থেকে নতুন কুশি হয়। আবার বাগানেই পাইকার এসে নগদ টাকায় ফুল কিনে নেন। তিন টাকায় পাইকারদের কাছে প্রতিটি ফুল বিক্রি করা হয়। তারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম নিয়ে ১০ টাকা করে প্রতিটি ফুল খুচরা হিসেবে বিক্রি করে থাকেন। এখানে ৩ জন লোক প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। তবে গত ২০১৭ সালে ফুল বিক্রি করে যে লাভ হয়েছে তা আর হবে কিনা সন্দেহ। তখন ৪ মাসে ফুল বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা আয় করা হয়েছে। প্রতি পিস গোলাপ  ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এখানে যে ফুলটা চাষ হয় তার নাম মেরেন্ডা গোলাপ ফুল। যেটাকে লাল গোলাপ বলা হয়।

মতিউর রহমান হচ্ছেন এখানকার সবচেয়ে বড় চাষি। তিনি  ৫০ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছেন। তিনি এ ব্যবসা করে অনেক টাকা পয়সার মালিক হয়েছেন। এছাড়া আবু আহম্মেদ শরিফ ব্যাংকে চাকরির পাশাপাশি  ২০ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। ফোর্ডনগর গ্রামে এখন ব্যাপকহারে এই গোলাপের চাষ হচ্ছে। অনেকেই এ ব্যবসায় ঝুঁকছেন।