গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে দ্বিগুণ সরকারি ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। আদায় করা এই টাকা হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের মাঝে নিজেরাই ভাগাভাগি করে নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাস্টার রোলের কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্যই আদায় হচ্ছে বাড়তি টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বহির্বিভাগে রোগীদের টিকিটের মূল্য ৫ টাকা। কিন্তু প্রতি রোগীর জন্য রেজিস্ট্রেশনের বিপরীতে টিকিটের মূল্য নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। এই আদায়কৃত টাকা হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের মাঝে নিজেরাই ভাগাভাগি করে নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৩ মে) জরুরি বিভাগে ও শনিবার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে সরেজমিনে ঘুরে রোগীর টিকিট বিক্রিতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ সময় চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ভাংনাহাটি গ্রামের জরিনা বেগম, পটকা গ্রামের শরীফুন্নেছা ও লোহাগাছ গ্রামের আবুল কাশেম জানান, আগে ৫টাকা বহির্বিভাগে ৫ টাকা নেওয়া হতো। অনেক দিন ধরেই এখানে ১০ টাকা করে নেওয়া হয়। এবারও চিকিৎসার জন্য টিকিট চাইলে নাম ও সিরিয়াল লিখে ১০টাকা করে দিয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোগী এন্ট্রি স্লিপের অপারেটর রেজিস্ট্রার মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট জাকিয়া ফারজানা বলেন, বহির্বিভাগে রোগীর টিকিটের মূল্য ১০ টাকা করে আদায় করছি অনেকদিন থেকেই। কারো কোনো সমস্যা হচ্ছে না, আপনার সমস্যা কি?
জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা এমবিবিএস ডাক্তার জান্নাতুল ফেরদৌস ইত্তেফাককে জানান, ৫ টাকা রাজস্ব খাতে জমা দিতে হয়। আর বাকি ৫ টাকা মাস্টার রোলের কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য আদায় করা হয়।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের টিএইচও মো. সফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী ৫ টাকার বাইরে অতিরিক্ত আদায়ের কোনো সুযোগ নাই। যদি এমনটি কেউ করে থাকেন, তাহলে তিনি সরকারের আদেশ লঙ্ঘন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

