ভুয়া নম্বর প্লেটে যানবাহন চলে কীভাবে?

আপডেট : ২৬ মে ২০২৫, ০১:৩০

ঘুষ-দুর্নীতি ও দালালচক্রে বন্দি সেবা-এই অভিযোগটি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আজকাল কমবেশি উচ্চারিত হইয়া থাকে। তবে বিশেষ করিয়া, বিআরটির ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ নূতন নহে। যদিও স্বাধীনতার পর এই প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়ন সাধিত হইয়াছে, তথাপি অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতা কমে নাই। সম্প্রতি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে দালাল চক্রের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সমগ্র দেশের ৩৫টি অফিসে অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইহার মধ্যে বেশ কয়েকটি অফিসে দালালের উপস্থিতি এবং নানা অনিয়ম হাতেনাতে ধরা পড়ে বলিয়া গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়। যদিও এই ধরনের অভিযোগের পর প্রতিবারই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ হইতে কিছু ধরাবাঁধা আশ্বাসের বাণী শুনিতে পাওয়া যায় এবং ইহার পুনরাবৃত্তি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। তথাপি এই সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হইয়াছে, এমন নজির কম।

গতকাল ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক খবরে বলা হইয়াছে যে, ভুয়া নম্বর প্লেটে চলিতেছে ৭৮ হাজার যানবাহন। খোদ বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলিয়াছেন, সমগ্র দেশে প্রায় ৬ লক্ষ যানবাহনের কাগজপত্র এখনো হালানাগাদ করা হয় নাই। ইহা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের পরিবহন খাতে বর্তমানে একধরনের নৈরাজ্য চলিতেছে। এই খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করিয়া জনগণের নিকট ইহার সুফল পৌঁছাইয়া দিতে হইবে। সড়কে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়, তাহা দূর করিতে হইবে। এই কথা সত্য যে, বিগত সময়ে দেশব্যাপী যেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন হইয়াছে, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সংস্কার হইয়াছে, তাহার মধ্যে বিআরটিএ অন্যতম। বিআরটিএ ভবনগুলির বাহিরের চেহারাই কেবল নহে, উন্নত প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটিয়াছে ইহার কার্যক্রমে; কিন্তু তাহার পরও বিআরটিএ লইয়া এমন খবর কেন পড়িতে হইবে? বিআরটিএর ব্যাপারে সবচাইতে বড় অভিযোগ হইল, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা পাইতে গেলে ঘুষ ও হয়রানি ব্যতীত বিকল্প পথ খোলা নাই! এই ক্ষেত্রে বড় সমস্যা 'দালাল'; তাহাদের সরব উপস্থিতির ফলে অধিকাংশ বিআরটিএ অফিসে দালাল ছাড়া সহজে সেবা পাওয়া যায় না। একই নম্বর প্লেট ব্যবহার করিয়া একাধিক যানবাহন চলাচলের ঘটনা ইহারই কারণে সম্ভব হইতেছে বলিয়া আমাদের বিশ্বাস। আবার যথাযথ পরীক্ষানিরীক্ষা না করিয়া ফিটনেস সনদ প্রদানের মতো গুরুতর অভিযোগের পাশাপাশি বিনা পরীক্ষায় অদক্ষ চালকদের হাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স সনদ তুলিয়া দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিতেছে। এমন তুঘলকি কাণ্ড বন্ধ হওয়া দরকার। নিয়মবহির্ভূতভাবে লাইসেন্স বা সনদ নেওয়ার ঘটনা কীভাবে ঘটে? কীভাবে ভুয়া নম্বর প্লেটধারী যানবাহন রাস্তায় চলাচল করে? ইহার কারণে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহা হইলে তাহার দায়দায়িত্ব কাহার? অবশ্য বিআরটিএ চেয়ারম্যান দাবি করিয়াছেন যে, ভুয়া নম্বর প্লেট লইয়া যেই সকল যানবাহন রাস্তায় চলাচল করিতেছে তাহাদের তালিকা ইতিমধ্যে ডিএমপি ও হাইওয়ে পুলিশকে দেওয়া হইয়াছে। আমরা আশা করি, তাহাদের বিরুদ্ধে এখন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

আমরা মনে করি, আমাদের নিরাপদে পথ চলিবার স্বার্থেই পরিবহন খাতের যাবতীয় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ করিতে হইবে। বিআরটিএতে অভিযান জোরদার করিতে হইবে, বাড়াইতে হইবে নজরদারি; ইহার সহিত ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশকেও এই ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি দিতে হইবে। একই নম্বর প্লেট ব্যবহার করিয়া কোনো যানবাহন চলাচল করিলেই তাহার বিরুদ্ধে লইতে হইবে ত্বরিত আইনানুগ ব্যবস্থা।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন