বাংলাদেশে কর্মীদের কল্যাণে কাজ করছে এমএএস সুমান্ত্রা

আপডেট : ০২ জুন ২০২৫, ১৯:৫৬

বিশ্বের অন্যতম প্রধান পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এমএএস হোল্ডিংস। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৬ সালে মাহেশ, অজয় ও শরদ আমালিয়ান ভ্রাতৃত্রয়ের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে। দক্ষিণ এশিয়ায় অন্তর্বাস প্রস্তুতকারক হিসেবে শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি আজ বিশ্বব্যাপী পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। 

বর্তমানে ১৪টি দেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপি ১ লক্ষেরও বেশি কর্মী নিয়ে এমএএস হোল্ডিংস নৈতিক ও টেকসই উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং কর্মী কল্যাণে তাদের অঙ্গীকারের জন্য পরিচিত। বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে এমএএস সুমান্ত্রা নামে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের পোশাক শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কেপিজেড ও সিইপিজেড -এ যথাক্রমে ৫,২০০ ও ২,৭০০ কর্মী নিয়ে এমএএস সুমান্ত্রা শুধু উৎপাদন নয়, কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছে।

কর্মী কল্যাণ: এমএএস সুমান্ত্রার অগ্রাধিকার 
এমএএস সুমান্ত্রার কর্মী কল্যাণ নীতিগুলো তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। নতুন কর্মীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি তিন মাসের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করে, যেখানে কারিগরি দক্ষতা, সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠানটি বিনামূল্যে খাবার ও পরিবহন সুবিধা প্রদান করে, যা কর্মীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে সহজ করেছে।
২০১৬ সাল থেকে এমএএস সুমান্ত্রা প্রতি বছর "গোল্ড কয়েন সেরিমনি" আয়োজন করে, যেখানে পাঁচ বছর চাকরি সম্পন্নকারী কর্মীদের ২২ ক্যারট সোনার কয়েন প্রদান করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রতি বছর প্রায় ৬৫০ কর্মীকে সম্মানিত করা হয়, যা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আনুগত্য ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রতিভা বিকাশে এমএএস সুমান্ত্রার উদ্যোগ
এমএএস সুমান্ত্রা কর্মীদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য "বিয়ন্ড বর্ডার্স" নামক একটি বিশেষ উদ্যোগ চালু করেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মীদের দুই সপ্তাহ থেকে দুই বছর পর্যন্ত বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়, যা তাদের পেশাদার ও ব্যক্তিগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এমএএস সুমান্ত্রার কান্ট্রি ডিরেক্টর মঙ্গলা অথাউদা বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিটি কর্মীর জন্য উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য হলো কর্মীদের পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং তাদের সাফল্যের পথ সুগম করা।” 

সমাজিক উন্নয়নে অবদান
এমএএস সুমান্ত্রা শুধু উৎপাদনেই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকেও বিশেষ নজর দেয়। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় হাসপাতাল, স্কুল, এতিমখানা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব করে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, রক্তদান কর্মসূচি আয়োজন এবং স্কুলগুলিতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ।

নৈতিক উৎপাদনে অঙ্গীকারবদ্ধ
এমএএস সুমান্ত্রা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে ন্যায্য ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে। তাদের "গো বিয়ন্ড সিএসআর" কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মী ও তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। এমএএস সুমান্ত্রা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের মানোন্নয়ন, নৈতিক চাকরির সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় কর্মীবাহিনীতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি টেকসই ও নৈতিক উৎপাদনের নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে কাজ করে যাচ্ছে।

মঙ্গলা অথাউদার এর ভাষায়, “আমরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও শিল্পখাতের উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা নৈতিক ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করে যাব।”

এমএএস সুমান্ত্রার এই যাত্রা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের গল্প নয়, বরং নৈতিক উৎপাদন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত করার অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ।

ইত্তেফাক/এএইচপি