গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ভোরে উত্তর গাজার জাবালিয়ায় একটি কিন্ডারগার্টেন ও আযম পরিবারের বাড়িতে হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন। একই দিনে মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে আবাসিক ভবনে হামলায় মৃত্যু হয় আরও ১৯ জনের।
অন্যদিকে, নেটজারিম করিডোরে মার্কিন সমর্থিত 'গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন' (GHF)-এর একটি নতুন ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এটি এমন সময়ে ঘটলো যখন মাত্র একদিন আগেই দক্ষিণ গাজার আরেকটি GHF সাইটে ত্রাণ সংগ্রহ করতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১০ জন নিহত হয়।
ফাউন্ডেশনটির বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করছেন, এই প্রকল্প জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মানবিক সাহায্য ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করছে এবং ইসরায়েলি সামরিক লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করছে। জাতিসংঘসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে GHF-কে বয়কট করেছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিন অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ মানবিক কর্মকর্তা জোনাথন হুইটল বলেন, ‘এমনভাবে খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে মানুষকে নজরদারির মধ্যে রাখা যায় এবং অনেকেই ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজও করছে না এবং অনেকের মতে, গাজার মানুষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটা বড় পরিকল্পনার অংশ এটা।’ তবে ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন জানান, ইসরায়েল এখন থেকে জাতিসংঘ ও GHF উভয়ের মাধ্যমেই সাহায্য পাঠানোর অনুমতি দেবে।
GHF জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার ও বুধবার মোট ৮,৪০,২৬২টি খাবারের সমতুল্য খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে—প্রতিদিনের হামলা, ত্রাণে ঘাটতি, এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে মতপার্থক্য এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

গাজা ‘বসবাসের অযোগ্য’: জাতিসংঘ