জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাস পাওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে আয়োজিত গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের কর্মসূচিতে বুধবারের হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। এতে দুই জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বুধবার রাতে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক নওশের কোরেশী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দ্রুত বিচার আইনে ‘আকস্মিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ত্রাস সৃষ্টি’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, জামালখানে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা হয়েছে। আটক দুই জনকে ঐ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংগঠনটির নেতাদের ভাষ্যমতে, বুধবার বিকালে নগরীর জামালখানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে মিছিল শুরুর আগ মুহূর্তে সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত একদল লোক গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ছয় জন নেতাকর্মী আহত হন।
হামলার জন্য ছাত্রশিবিরকে দায়ী করে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট নেতারা তাত্ক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানান। তবে এক বিবৃতিতে ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে জানায়, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে শাহবাগপন্থি ও শাহবাগবিরোধী দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রশিবিরের নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ ওবাইদুর রহমান (২৪) ও মো. সেলিম (২৮) নামে দুই জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাতেই ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্য’ ব্যানারে ৫০-৬০ জন যুবক কোতোয়ালি থানার সামনে জড়ো হয়ে তাদের মুক্তির দাবিতে অবস্থান নেয়। ওসি আবদুল করিম বলেন, কিছু ছেলে রাতের বেলা থানার বাইরে অবস্থান করে ঘণ্টাখানেক পর চলে গেছে। এটিকে থানা ঘেরাও বলা যাবে না।
এর আগে বুধবার জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলামের মুক্তির নিন্দা জানিয়ে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বিকাল ৩টায় একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। তবে সমাবেশ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘শাহবাগ বিরোধী ঐক্য’ ব্যানার বহন করে একটি মিছিল সেখানে উপস্থিত হয়ে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের সমাবেশের ব্যানার কেড়ে নিয়ে তাতে আগুন দেয় ‘শাহবাগ বিরোধী ঐক্য’ কর্মীরা। তাদের হামলায় গুরুতর আহত হন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি রিপা মজুমদার, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের জেলা সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত বিশ্বাস সিকু ও অর্থ সম্পাদক সুদীপ্ত গুহ। আহতদের মধ্যে কয়েক জন নারীও রয়েছেন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সহ-সভাপতি পুষ্পিতা নাথ বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের আগের দিন থেকেই ফেসবুকের বিভিন্ন পেইজে আমাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পোস্ট করা হচ্ছিল। এর ফলশ্রুতিতে আমরা অতর্কিতে হামলার শিকার হই।
অন্যদিকে ‘শাহবাগ বিরোধী ঐক্য’র নেতাকর্মীরা দাবি করেন, তারা ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ’ হিসেবে এই সমাবেশ প্রতিহত করেছেন। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। হালকা মারামারির ঘটনা ঘটে এবং দুই জন আহত হন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
