রাজধানীর খুচরা বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দাম অনেকটাই আকাশছোঁয়া। ফলে মধ্য ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এখন একমাত্র স্বস্তির নাম ব্রয়লার মুরগি। শুক্রবার (৩০ মে) রাজধানীর কাওরান বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে শুধু মুরগি নয়, সব ধরনের মাংস ও মাছের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। বাজারে সরকারিভাবে নজরদারি না বাড়ালে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির খাদ্য নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব পড়বে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আজকের বাজারে গরুর মাংস ৭৫০–৮০০ টাকা আর খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬০–১৭০ টাকায়। তাই এখন বাধ্য হয়ে অনেকেই মুরগির মাংসকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
এদিকে, গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে দাম কমেছে ১০ টাকা। সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ২০ টাকা কমে এসেছে, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৬০ টাকায়। তবে দেশি মুরগির দাম এখনও রয়েছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। তাই এখন বাধ্য হয়ে অনেকেই মুরগির মাংসকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
তবে বিক্রেতারা বলছেন, এখন বাজারে মুরগীর দাম কম। কিন্তু ঈদের আগ মুহূর্তে মুরগির দামও কিছুটা বাড়তে পারে।
মিরপুরের বাসিন্দা ক্রেতা শিরিন আক্তার বলেন, ছেলে-মেয়েরা গরুর মাংস চায়, কিন্তু এটা এখন আর সামর্থ্যের মধ্যে নেই। মুরগির দামই একমাত্র সহনীয়। তাই মুরগী কিনে নিয়ে যাচ্ছি।
এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মওদুদ আহমেদ বলেন, একটা সময় সপ্তাহে একদিন গরুর মাংস খাওয়া হতো, এখন সম্ভব না। কারণ গরুর মাংসের দাম নাগালের বাহিরে। এখন আমিষের চাহিদা মেটানোর জন্য মুরগিই একমাত্র ভরসা।
মুরগি বিক্রেতা জহিরুল ইসলাম জানান, ব্রয়লারের চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি। অনেকে বেশি করে মুরগি কিনে ফ্রিজে রেখে দিচ্ছেন। তবে ঈদের আগে দাম একটু বাড়বে নিশ্চিত।
গরুর মাংসের বিক্রেতা হাসান আলী বলেন, কম দামে আমরা কিনলে কমেই বিক্রি করতাম। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ে বলেই আমরা পারি না। এখন সব নির্ভর করে হাটে কীভাবে দাম ওঠানামা করছে।

