ভারতে করোনাভাইরাসে নতুন উদ্বেগ, ৪ দিনে শনাক্ত দ্বিগুণের বেশি

আপডেট : ৩১ মে ২০২৫, ১৯:৩৪

ভারতে ফের বাড়তে শুরু করেছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গিয়েছে। ২৬ মে পর্যন্ত যেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১,০১০, সেখানে ৩০ মে নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৭১০ জনে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য বলছে, কেরালায় সর্বাধিক সংক্রমণ রেকর্ড হয়েছে। রাজ্যটিতে ১,১৪৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণের দিক থেকে এরপর রয়েছে মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও গুজরাট।

মহারাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৪২৪ জন, দিল্লিতে ২৯৪ এবং গুজরাটে ২২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকেও আক্রান্তের সংখ্যা সমান, দু’টি রাজ্যেই ১৪৮ জন করে। পশ্চিমবঙ্গেও একই সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও উত্তরপ্রদেশে ৪২ জন, রাজস্থানে ৫১ জন এবং পুদুচেরিতে ২৫ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হরিয়ানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গোয়া, ওড়িশা, পাঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীর থেকেও সংক্রমণের তথ্য উঠে এসেছে।

তবে আশার খবর হলো—আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, সিকিম এবং হিমাচল প্রদেশে এখন পর্যন্ত কোনো করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। যদিও সংক্রমণ এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত, তবু আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি সাতজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বয়স্ক। মহারাষ্ট্র ও দিল্লিতে মারা যাওয়া দুজনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে তারা কোভিড-১৯ ছাড়াও অন্য গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তবে অন্যদের মৃত্যু সরাসরি করোনাভাইরাসের কারণেই হয়েছে কিনা, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

কর্মকর্তারা বলেছেন যে করোনাভাইরাসের এই নতুন রূপটি এখনি বড় কোনো উদ্বেগের কারণ নয়। ছবি: সংগৃহীত

এ প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর মহাপরিচালক ড. রাজীব বাহল জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাসের এই নতুন রূপটি বড় কোনো উদ্বেগের কারণ নয়, তবে ব্যক্তিগতভাবে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বর্ধিত সতর্কতার প্রয়োজন না হলেও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, বিশেষ করে যাদের ক্যান্সার বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে, তাদের সংক্রমণ এড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনই বড় কোনো বিধিনিষেধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে পরিস্থিতি নজরে রাখছে কেন্দ্র ও রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ আক্রান্তই হালকা উপসর্গ যুক্ত এবং হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়নি। তবে যেহেতু ভাইরাসের প্রকৃতি দ্রুত রূপান্তরিত হতে পারে, তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়েই সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জনসাধারণকে মাস্ক ব্যবহার, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যাদের বয়স বেশি, যাদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের বিশেষ সাবধানতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

 

ইত্তেফাক/টিএস