প্রিয় ভর্তি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিও। আশাকরি তোমরা ভালো আছো। ইতিমধ্যেই তোমাদের এইচএসসির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। স্বপ্নের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলে। বাকি আছে শুধু ‘ভর্তিযুদ্ধ’ নামক তোরণটা। ওটুকু সহজে পেরিয়ে যাতে সমুজ্জ্বল আলোক পথের অভিযাত্রী হয়ে নব জীবনের জয়গান গাইতে পারো, সে লক্ষ্যে আমার সামান্য নিবেদন।
১. প্রকাশিত ফলাফলে যারা জিপিএ - ৫.০০ পেয়েছো , তারা অন্যদের চেয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে আছো। এর অর্থ এই নয় যে, তোমরা ভর্তিযুদ্ধে বিজয়ী হবে। অন্যদিকে যাদের জিপিএ কম তারা যে একেবারে পিছিয়ে তা নয়,পরিশ্রম করলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের টপকিয়ে ভর্তি যুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে পারবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
২.সামনের দিনগুলোতে পড়ার টেবিলের সাথে নিজেদের আত্মার মেলবন্ধন ঘটাতে হবে। প্রতিদিন পূর্বের চেয়ে পড়ার সময়টা অন্তত ১৫-২০ মিনিট বাড়াবে।
৩.ভর্তি পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কোনো সিলেবাস নাই। সিলেবাস না থাকার কারণে অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখিন হতে হয়। তোমরা এটাকে বাধা-বিপত্তি নয় বরং চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করবে। এককথায় জীবনতো সংগ্রামের জায়গা।
৪.আর একটু বলে রাখা ভালো, বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে প্রশ্ন ম্যাপিং করা শিখবে। আরও উল্লেখ্য, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু তার নিজস্ব পদ্ধতিতে প্রশ্ন প্রণয়ন করে থাকে, তাই এই বিষয়টা বিশেষ বিবেচ্য। যেমন- ধরা যাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে তারা লিখিত ও এমসিকিউ উভয় পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৫.এবার সিলেবাসের ভেতরে প্রবেশ করতে চাই। এ ক্ষেত্রে ইংরেজির উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বিগত পরীক্ষার ফল তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দেশে এত বেশি মেধাবি থাকা সত্ত্বেও ২০১৪-১৫ সেশনে ঢাবি “খ” ইউনিট - ভর্তি পরীক্ষায় ২ জন শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিল; যা বাস্তবিক অর্থে বিস্ময়কর। এক্ষেত্রে ভালো করার জন্য পাঠ্যবইয়ের বিকল্প নেই।
৬.সাধারণ জ্ঞান ও বাংলা কিন্তু একেবারে হালকা করে দেখার মতো বিষয় নয়। বিগত বছরগুলোতে ফেল করা শিক্ষার্থীর একাংশ বাংলাতে ফেল করেছিল। আর সাধারণ জ্ঞান সিরিয়াল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নও করে থাকে, সেক্ষেত্রে বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি ওগুলোর প্রতিও সমানভাবে গুরুত্ব দিবে।
৭.অনেকেই গ্রুপ স্টাডি করে থাকে। গ্রুপ স্টাডি করা কতটুকু দরকার, এটা তোমাদের অভ্যাসের উপর নির্ভর করে। এটার ভালো ও মন্দ উভয় দিক রয়েছে। সিদ্ধান্তটা সম্পূর্ণ তোমাদের উপর ছেড়ে দিলাম। কারণ ইতিপূর্বেই তোমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম বেশি নিজে নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছো।
১০.আর একটা বিষয় লক্ষণীয়। অনেকেই বলবে প্রশ্নব্যাংক,বই,সাজেশন্স পড়া শেষ। তোমার আগে কেউ কাজ শেষ করলেই যে শেষ হাসিটা সে হাসবে তেমনটা কিন্তু নয়। সুতরাং এগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলবে বরং প্রতিদিন নিজেকে নতুন করে আবিস্কার করবে, নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ব্রত হবে।
