কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা নগরীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ মহানগর গড়তে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সিটি এলাকার ভবনের নতুন নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ছাদে বাগান করার শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ভবনের ছাদে বাগান করলেই ১০ শতাংশ কর মওকুফের বিষয়টিও এতে সন্নিবেশ থাকছে। যারা ভবনের ছাদে বাগান করার শর্ত পূরণ করবেন তারাই নকশা অনুমোদন পাবেন। ইত্তেফাককে এসব কথা বলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মোঃ মনিরুল হক সাক্কু।
২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর দিনে দিনে অনেক বেড়েছে দালান-কোটাসহ বহুতল ভবন এবং একইসঙ্গে অত্যাধুনিক সিটিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াও চলছে। বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন নির্মাণের কারণে প্রাচীন এ শহর অনেকটাই ইট-পাথরের কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। নগরীর ধর্মসাগর পার্ক, চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন ছাড়া নগরীতে তেমন গাছ-গাছালি দেখা যায় না। রাস্তা প্রসারের কারণে অনেক গাছ-গাছালি কেটে ফেলা হয়েছে।
সিটির ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, পাঠ্যপুস্তকে গাছ-গাছালি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য থাকলেও শহরে নানা প্রজাতির গাছ প্রত্যক্ষ করতে পারে না শিক্ষার্থীরা। এবার এই শহরকে পরিকল্পিতভাবে সবুজের উদ্যানে পরিণত করার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ছাদে বাগানের উপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এদিকে সিটি মেয়রের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরীর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজনসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, ‘ইট-পাথরে ঘেরা, ময়লার স্তূপ ও বায়ুদূষণে আবদ্ধ এ নগরীর ভবনের ছাদে বাগান স্থাপনে কর মওকুফের ঘোষণা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে ভবন মালিকরা উত্সাহিত হবে। নির্মল পরিবেশ গড়ার ক্ষেত্রে এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে এক সময় কুমিল্লা শহর সবুজের শহরে পরিণত হবে।’
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মোঃ মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে নগরীকে সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতে যেমন নগরীর সৌন্দর্য বাড়বে, তেমনি যারা ভবন নির্মাণের নকশায় ছাদে বাগান করার শর্ত পূরণ করবেন তাদের ১০ শতাংশ কর মওকুফ করা হবে।’
