জিম্বাবুয়ের সাবেক ব্যাটসম্যান গ্রান্ট ফ্লাওয়ার মনে করেন, আইসিসি হয়তো জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট কর্মকর্তাদের আরো দায়িত্বশীল করে তুলতেই দেশটির ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। কিন্তু এক সময়ের এক খ্যাতিমান ব্যাটসম্যান মনে করেন, আইসিসি জিম্বাবুয়ের ক্রীড়া ও বিনোদন কমিটির (এসআরসি) পদক্ষেপটাকে সঠিকভাবে বুঝতে পারেনি।
জিম্বাবুয়ের এসআরসি সম্প্রতি দেশটির ক্রিকেট বোর্ড ভেঙে দিয়ে সেখানে নিজস্ব লোক দিয়ে কাজ চালাতে চাচ্ছিল। আইসিসি এই পদক্ষেপে মনে করেছে, তাদের সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ক্রিকেট জিম্বাবুয়ের সদস্যপদ স্থগিত করেছে।
ফ্লাওয়ার বলেছেন, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তৈরি হওয়া হতাশা থেকেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে আইসিসি, ‘আমি মনে করি, বেশ কিছুদিন ধরেই দুর্নীতি, প্রতারণাসহ নানা সমস্যায় আক্রান্ত জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট আইসিসিকে হতাশ করেছে। তারা সম্ভবত মনে করেছে, জিম্বাবুয়ের এই ব্যবস্থাকে একটা ধাক্কা দিলে দেশটির কর্মকর্তারা বুঝতে পারবেন, তাদের আসলে কী করা উচিত। তারা মনে করেছে, জিম্বাবুয়ের একটা সময় আসলে বোঝা উচিত, কি করতে হবে। আপনার তো বোর্ডটা শৃঙ্খলার সঙ্গে চালানো উচিত।’
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের সংকট শুরু আজ থেকে নয়। সেই ২০০৪ সালে এই গ্রান্ট ফ্লাওয়ার সহ ১৪ ক্রিকেটার বের হয়ে এসেছিলেন দল থেকে। সেই থেকে কখনোই দেশটির ক্রিকেট সংকটমুক্ত হতে পারেনি। দফায় দফায় বহিষ্কার, ধর্মঘট, পাওয়া নিয়ে সমস্যা, দুর্নীতি, ব্যর্থতা ঘিরে ধরেছে দেশটির ক্রিকেটকে।
তবে গত কিছুদিন ধরে একটু আশার আলো দেখা যাচ্ছিল। জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদ, অলিম্পিক সাঁতারু ক্রিস্টি কভেন্ট্রি ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার পর ক্রিকেট নিয়েও আশার আলো ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে এইসব পদক্ষেপ সে আশা নষ্ট করে দিয়েছে।
ফ্লাওয়ার বলছেন, এখনকার এসআরসি বেশ কিছু ভালো লোকের একটা উদ্যোগ। আর এটাকে ঠিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বলা যায় না। ফ্লাওয়ার মনে করেন, এখানে আইসিসির বোঝায় একটু ভুল আছে, ‘আমার বোঝাপড়া হলো, এসআরসি একটা জনগণের প্রতিষ্ঠান। এটা ঠিক সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। আমি মনে করি, এখানে বড়ো একটা পার্থক্য আছে। আমি অবাক হয়েছি, সংবাদ মাধ্যম এই পার্থক্যটা ধরতে না পারায়। এখন এসআরসি অনেক স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আর রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের কথা যদি বলে, এটা খুব মজার বিষয় যে, আইসিসি এটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করে। কারণ, অনেক দেশে প্রকাশ্যেই এটা আলোচনা হয় যে, ক্রিকেটের অনেক বিষয় তাদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ঠিক হয়। ফলে আইসিসির একটা স্ববিরোধিতা তো আছেই।’
