ঈদের আগের দিন সড়কে ঝরল অন্তত ১৭ প্রাণ

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৫, ০৪:০০

পবিত্র ঈদুল আজহায় প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে ঘরে ফিরছে মানুষ। আর এই যাত্রাপথে দুর্ঘটনায় শুধুমাত্র ঈদের আগের দিন প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৭ জন। আর এতে আহত হয়েছে অন্তত অর্ধশতাধিক। আজ শুক্রবার দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক-মহাসড়কে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে গাইবান্ধার পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জে ৬ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া কিশোরগঞ্জে ৩ জন, মুন্সিগঞ্জে ১ জন, কুমিল্লায় ২ জন, শেরপুরে ১ জন, টাঙ্গাইলে ২ জন এবং ময়মনসিংহে ২ জনের মৃত্যু হয়।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের মাহদীপুর ইউনিয়নের ঢোলভাঙ্গা সংলগ্ন সৃষ্টিরতল এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকসহ তিন যাত্রী নিহত হন। এসময় আহত হন আরও দুজন। আহতদের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে পীরগঞ্জে নীরব নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এছাড়া গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়কে কোচের চাপায় সিএনজি অটোরিকশাচালকসহ এক শিশুর মৃত্যু হয়। 

দুর্ঘটনার বিষয়টি পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী ভুট্টো নিশ্চিত করেন। এছাড়া গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়কে কোচের চাপায় সিএনজিচালকসহ এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন। 

বিকালে কিশোরগঞ্জ-পাকুন্দিয়া আঞ্চলিক সড়কের কোদালিয়া চৌরাস্তা এলাকায় মাইক্রোবাসের চাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। এ ঘটনায় অপর এক মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন। এছাড়া সকালে পাকুন্দিয়ার মরুরা এলাকায় বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা এক কিশোর নিহত হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরও দুই যাত্রী।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাখাওয়াৎ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, বিকালে দুলাল মিয়া, শাহাবুদ্দিন এবং সাব্বির একটি মোটরসাইকেলে ঈদের কেনাকাটা করার জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে কোদালিয়া চৌরাস্তায় পৌঁছলে পেছন থেকে একটি মাইক্রোবাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে সামনে থাকা কিশোরগঞ্জগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয় মোটরসাইকেলসহ আরোহী তিনজন। স্থানীয়রা তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুলাল মিয়া ও সাহাবুদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। আহত সাব্বির হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজায়েত প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঢাকা থেকে ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে ফিরছিল তারা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাকুন্দিয়ার মরুড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই যাত্রী সারোয়ার হোসেন নিহত হয়। এতে গুরুতর আহত হন দুই যাত্রী।

বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সিগঞ্জ-ছনবাড়ি অভ্যন্তরীণ সড়কের মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার আটপাড়া কল্লিগাঁও এলাকায় যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশা ও কাঠবোঝাই নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাসুদ রানা নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় ওই ব্যক্তির স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান। শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ জানান, ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পথে মাসুদ রানার মৃত্যু হয়। মাসুদের স্ত্রী সেতু বেগমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

কুমিল্লা সিলেট মহাসড়কের বুড়িচংয়ের রামপুর এবং দেবিদ্বারের বড়শালঘর এলাকায় পৃথক দুটি বাস খাদে পড়ে দুই নারী যাত্রী নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০ জন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এবং শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। হাইওয়ে ময়নামতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার শুক্রবার দুপুরে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভোরে শেরপুর সদর উপজেলার তারাকান্দি এলাকায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে একজন নিহত হন। এতে আহত হয় আরও অন্তত ১৫ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক জাবেদ হোসেন মোহাম্মদ তারেক। 

টাঙ্গাইলে উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রেনের ছাদ থেকে ছিটকে পড়ে এক ব্যক্তি নিহত হন। অপরদিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়িতে বাসের ছাদ থেকে পড়ে আরও এক ব্যক্তি নিহত হন। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার ইন্নিবাড়ি এলাকায় ট্রেনে ও উপজেলার নাগবাড়ি এলাকায় এ ঘটনাগুলো ঘটে। কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, সকালে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রেনের ছাদে করে মানুষ বাড়ি ফিরছিল। ট্রেনটি ইন্নিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে এক ব্যক্তি রাস্তার পাশে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তি নিহত হন। তবে এই ঘটনায় ট্রেন থামেনি। একই উপজেলার নাগবাড়ি এলাকায় পাবনাগামী একটি বাসের ছাদ থেকে পড়ে রানা নামে একজন যাত্রী নিহত হন।

সকাল ৮টার দিকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার পশ্চিম তালদিঘী ফকিরবাড়ী নামক স্থানে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মসজিদের দেয়ালে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসযাত্রী বাবা-ছেলে নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও ১২ জন। তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. টিপু সুলতান এসব বিষয় নিশ্চিত করে জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাসটি শেরপুরের দিকে যাচ্ছিল। সকাল ৮টার দিকে তারাকান্দার পশ্চিম তালদিঘীর ফকিরবাড়ী নামক স্থানে আসতেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি মসজিদের দেয়ালে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী নিহত হন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম