দিনে ট্রেনের অ্যাটেনডেন্ট উবার চালক, রাতে করপোরেট চোর

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৯, ২১:০৪

মমিনুল ইসলাম ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের অ্যাটেনডেন্ট। সপ্তাহে গড়ে পাঁচ বার ডিউটি করেন। দিনের বেলায় ট্রেনে ডিউটি শেষ করে গভীর রাতে চুরিতে নেমে পড়েন। ডিউটির ফাঁকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোতে ডিজিটাল লক সিস্টেম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। এ জন্য তিনি আরো চার জনকে দলে ভিড়িয়েছেন। এই চক্রটির নেতৃত্ব দেন তিনি। রবিবার গভীর রাতে বংশাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের একটি টিম তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মমিনুল ইসলাম, বদরুল হক ওরফে নাসির, জামাল উদ্দিন, মফিজুর রহমান ও রাহাদ সরকার। এ সময় তাদের কাছ থেকে চোরাই পাঁচটি ল্যাপটপ, ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা, চোরাই কাজে ব্যবহূত দুইটি প্রাইভেট কার, তালা ভাঙার একটি রেঞ্জ, দুইটি স্ক্রু ড্রাইভার, একটি হেক্সো ব্লেড, একটি প্লাস ও একটি কেচি উদ্ধার করা হয়।

ডিবির উপকমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের সূত্র দিয়ে বলেন, দুই/তিন বছর যাবত্ উত্তরা, ধানমন্ডি, কলাবাগান ও রমনা এলাকার বিভিন্ন করপোরেট অফিসে ঢুকে তারা সুকৌশলে ডিজিটাল লক খুলে চুরি করে থাকে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মমিনুল ইসলাম সোনার বাংলা ট্রেনের অ্যাটেনডেন্স ও মফিজুর রহমান এক জন উবার চালক। তারা দুই জন ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন অফিসের তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তী সময়ে গ্রেফতারকৃতরা একত্রিত হয়ে চুরি করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরো জানায়, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুই শতাধিক অফিসে চুরি করেছে।