কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজে অর্জনের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা লাভ হয় না। একটু মন দিয়ে ভাবুন, জীবনে অনেকবার আপনি এরকম ভেবেছেন, ‘এটা যদি হয়ে যায়, তাহলে আমার জীবনে আর কিছু চাই না।’ যখন ছোটো ছিলেন তখন ভাবতেন, ‘এই খেলনাটা পেলে আর আমার কিছু চাই না!’ আর সেটা পেয়ে যাওয়ার পর, কয়েক সপ্তাহ পেরোতে না পেরোতেই ওটার আর কোনো গুরুত্বই থাকত না। জীবন পরিপূর্ণ হতো না। স্কুলের বছরগুলোতে ভাবতেন পরীক্ষায় পাশ করা গেলেই জীবন পূর্ণ হয়ে যাবে। পাশ তো করেই যেতেন; কিন্তু জীবন সেই জায়গাতেই রয়ে যেত। তারপর ভাবলেন, পড়াশোনার পাঠ চুকলে জীবনে পূর্ণতা আসবে। সেটাও হলো। তারপর ভাবলেন, নিজের পায়ে দাঁড়াতে নাই পারলে আর এত পড়াশোনা করার কী মানে হলো? দাঁড়িয়ে গেলেন। তিন মাস পর মনে হলো, এরকম গাধার মতন খেটে কিচ্ছু হবে না, মনের সেই মানুষটিকে বিয়ে না করতে পারলে জীবন পরিপূর্ণ কখনোই হবে না। সেটাও হলো। তারপর কী হলো সেটা আর বলার প্রয়োজন নেই, সবাই জানেন।
কার্য যাই করে থাকুন না কেন, জীবনে পরিপূর্ণতা আসেনি। ওভাবে পরিপূর্ণতা আসে না। একমাত্র যদি আপনার অন্তর-প্রকৃতি পরিপূর্ণ হয়, কেবল তখনই আপনার জীবন পূর্ণতা লাভ করে। আপনার অন্তর-প্রকৃতি অসীম হলে, আপনার জীবনও অসীম হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় পৌঁছলে, তারপর চোখ বন্ধ করে বসে থাকুন বা যা ইচ্ছে করুন, জীবন সর্বদাই পূর্ণ থাকে। যখন একজন মানুষ সেই অবস্থায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে তার নিজের কোনো কিছুই প্রয়োজন নেই; কিন্তু প্রয়োজন হলে যে কোনো কাজই করতে পারে, সেই মানুষটিই পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে।
এটা একটু ভাবুন, আপনি একটার পর একটা কাজ কেন করে চলেছেন? করছেন পূর্ণতা লাভের জন্যই। যারা অতিরিক্ত কাজ করেন তাদের যদি জিজ্ঞাসা করেন তারা এমন কেন করছেন, তারা বলবেন ‘না করলে খাওয়াবে কে? বউ-বাচ্চাদের দেখবে কে?’ কিন্তু সত্যি কথাটা হলো, সব প্রয়োজন মিটে গেলেও মানুষ শান্ত হয়ে একদিনও বসে থাকতে পারবে না। গোটা দিন ছেড়েই দিন, তিন ঘণ্টাও বসে থাকতে পারবে না! কিছু না কিছু তাকে করতেই হবে। এটার কারণ হলো আপনার অন্তর-প্রকৃতি পূর্ণ নয়, তাই বাহ্যিক কর্ম দ্বারা আপনি পূর্ণতা লাভ করতে চাইছেন। আপনি খাবার ও আরাম মেটানোর জন্য কর্ম করছেন না, আসলে সবকিছুই করছেন পূর্ণতা লাভের জন্য। এটা সচেতনভাবেই করুন বা অচেতন, আপনার সেই একটাই উদ্দেশ্য।
আপনার অন্তর-প্রকৃতি যদি পূর্ণতা লাভ করে, তাহলে কর্ম করার প্রয়োজনীয়তার অবসান ঘটে। যদি কর্ম করতেই হয়, সেটা তখন পরমানন্দের সঙ্গে করা যায়। কর্ম করার প্রয়োজনীয়তা না থাকলে, পরমানন্দে কেবল চোখ বন্ধ করেই বসে থাকা যায়। এই অবস্থায় মানুষ পৌঁছলে বলা হয় সে অনন্তকে ছুঁয়েছে। তার মানে এই নয় যে, সে কর্ম করতে অক্ষম হয়ে গেছে। প্রয়োজন পড়লে সে দিন-রাত এক করে কাজ করার ক্ষমতা রাখে; কিন্তু সেটা তার অন্তরের প্রয়োজনীয়তা নয়। তার অন্তর সস্পূর্ণ স্থির। কর্ম ও কর্মহীনতা উভয় ক্ষেত্রেই সে একই রকম পরিপূর্ণ।
n ঈশা ফাউন্ডেশন
