নড়াইল-গোবরা সড়কের সাত কিলোমিটার বেহাল

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৯, ২১:২৮

নড়াইল পৌর এলাকার ধোপাখোলা মোড় থেকে গোবরা বাজার পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। নড়াইল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এ সড়কটি নড়াইল-খুলনাসহ এ অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ১২ বছর আগে এ সড়কের পুরোটাই সংস্কার করা হয়। কিন্তু নিম্নমানের কাজ হওয়ার কারণে সংস্কারের দুই বছর পর থেকেই পিচ-খোয়া উঠতে থাকে। ক্রমান্বয়ে তৈরি হয় ছোটো-বড়ো অসংখ্য খানাখন্দ। এ খানাখন্দ মেরামত করতে পিচঢালাই ঐ পাকা সড়কের ওপর স্থানে স্থানে উঁচু করে বসানো হয় ইটের সলিং। সেই ইটের সলিংও এখন নড়বড়ে, ভাঙাচোরা। বাকি পিচের অংশ খানাখন্দে ভরপুর।

নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি নড়াইল-ফুলতলা-খুলনা, নড়াইল-নওয়াপাড়া-খুলনা, নড়াইল-ভাটপাড়া-খুলনা ও নড়াইল-রঘুনাথপুর-কালিয়ায় যাতায়াতে ব্যবহার করতে হয়। এ সড়ক ব্যবহার করলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর যশোরের নওয়াপাড়ার সঙ্গে নড়াইলের যাতায়াতে দূরত্ব কমে প্রায় ১৫ কিলোমিটার। নড়াইল-খুলনা যাতায়াতে এ সড়ক দিয়ে ফুলতলা হয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার কমে।

স্থানীয়রা জানান, নড়াইল-নওয়াপাড়া ও নড়াইল-ফুলতলা সড়কে নিয়মিত যাত্রীবাহী বাস চলে। প্রতিদিন অন্তত ভাড়ায়চালিত দেড় হাজার মোটরসাইকেল, কার্ভাড ভ্যান, ট্রাক, পিকআপ, টেম্পু ও ইজিবাইকসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে এ সড়কে। এছাড়া এ সড়কের আশপাশে গোবরা মিত্র মহাবিদ্যালয়, গোবরা মহিলা কলেজ, গোবরা পার্ব্বতী বিদ্যাপীঠ, প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বীড়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুশুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবস্থিত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর এলাকার ধোপাখোলা মোড় থেকে গোবরা বাজার পর্যন্ত ঐ সাত কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই ভাঙাচোরা। স্থানে স্থানে পাকার ওপর উঁচু করে দেয়া হয়েছে ইটের সলিং। সেই ইটের সলিংয়ের বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে, কোথাও কোথাও ধসে বা উঠে গেছে সেই ইট। অন্য অংশের পিচ-খোয়া উঠে ছোটো-বড়ো গর্ত তৈরি হয়েছে। গাড়ি গেলে ধুলোয় অন্ধকার হয়ে যায়। গাড়ি চলে ঝুঁকি নিয়ে। গর্তে প্রায়ই আটকে যায় যানবাহন। ঘটছে দুর্ঘটনা। বৃষ্টি-বর্ষায় নাকাল যাতায়াতকারীরা। দুর্ভোগের শুরু ধোপাখোলা মোড় থেকেই। সেখানে পিচ-খোয়া উঠে হয়েছে ছোটো-বড়ো অসংখ্য গর্ত। এ অবস্থা পৌর এলাকার ব্রাহ্মণডাঙ্গা হয়ে উজিরপুর পর্যন্ত। এরপরই পড়েছে নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়ন অংশ। এ অংশের বীড়গ্রাম, কলোড়া ও গোবরা গ্রাম অংশে পিচের ওপর মাঝে মাঝে ইটের সলিং। এ ইটের সলিংয়ে প্রায় চলাচল অনুপযোগী। কলোড়া ও গোবরা গ্রাম অংশে যেখানে পিচঢালাই, সেখানে ছোটো-বড়ো অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

ধোপাখোলা মোড়ের বাসিন্দা প্রবীণ ব্যক্তি কুমারেশ বিশ্বাস জানালেন, অন্তত ১২ বছর আগে সড়কের পুরোটা সংস্কার করা হয়েছিল। এর দুই বছর পর থেকেই ভাঙাচোরা। আর গত তিন বছর আগে ইটের সলিং দিয়ে দোতলা সড়ক তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, ‘জীবনে দেখিনি পিচঢালাই সড়কের ওপর ইটের সলিং দেয়।’ বাসচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইটের সলিং অংশে এমনিতেই খানাখন্দের জায়গার মতো গাড়ি ঝাঁকুনি খায়। তারপর আবার ইট নড়বড়ে হয়ে ধসে গেছে। আবার উঁচু  ইটের সলিং অংশে গাড়ি উঠতেও ঝাঁকি লাগে, নামতেও ঝাঁকি লাগে। এ সাত কিলোমিটার রাস্তায় বাসে যেতে ১০ মিনিট সময় লাগার কথা থাকলেও সময় লাগছে প্রায় এক ঘণ্টা।

গোবরা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, এ সড়কে কাচ ও সিরামিকের মতো ভঙ্গুর মালামাল পরিবহন করাই যায় না। অন্য মালামাল পরিবহনে সময় লাগে, ভাড়াও গুনতে হয় বেশি। খাদে পড়ে গাড়িও ভাঙে।

গোবরা পার্ব্বতী বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ বলেন, এ সড়কে হাইওয়ের মতো প্রচুর গাড়ি চলে। নড়াইল, যশোর ও খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়াতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি। সড়ক সংস্কারে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এ বিষয়ে নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ওমর আলী বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির উন্নয়নে ইতিমধ্যে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দ্রুতই কাজ শুরু করবে বলে আশা করছি।