ভূঞাপুরে শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ ও আশ্রয়কেন্দ্র খোলায় সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশির ভাগ বিদ্যালয় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। আবার অনেক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষে কোমর পর্যন্ত পানি। পানির কারণে অনেক বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আসন্ন পিইসি, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখা বিঘ্নিত হচ্ছে। এদিকে বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হওয়ায় আটটি প্রাথমিক ও সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।
উপজেলার খানুরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যার পানির কারণে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। কবে নাগাদ বিদ্যালয়ে যেতে পারব তা বলা মুশকিল।
গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার মোহাম্মদ আলী বলেন, হঠাত্ করেই বন্যার পানিতে বিদ্যালয়ের অফিস ও নিচতলার প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে হাঁটু পানি জমে যায়। এতে ক্লাস কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীন বলেন, বন্যার কারণে ভূঞাপুরের ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১০টি বিদ্যালয়ে খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। সকল শিক্ষককে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, বন্যার পানি প্রবেশ করায় উপজেলার ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ছয়টি দাখিল মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ছয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যাকবলিত অনেক পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।
শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঝোটন চন্দ্র জানান, বন্যার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যাকবলিত পরিবারদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
