কালভার্ট আছে কিন্তু রাস্তা নেই, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৫, ১৭:২৯

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার দক্ষিণ বাইমাইল দেহানখিলা খালের উপর নির্মাণ করা হয়েছে কালভার্ট। খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে কালভার্ট নির্মাণ হলেও নেই কোনো সংযোগ সড়ক। এতে একদিকে কালভার্টটি পড়ে আছে ব্যবহার ছাড়াই অন্যদিকে স্থানীয়দের চলাচলেও পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।

স্থানীয়রা জানায়, বায়রা ইউনিয়নের দেহানখিলা মসজিদের উত্তর পাশে খালের উপর দিয়ে লোকজন যাতে সহজে চলাচল করতে পারে, এ জন্য ১১ মিটার দৈর্ঘ্যের এই কালর্ভাটটি নির্মাণে বরাদ্দ আসে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে। সে মোতাবেক ২০২২- ২০২৩ অর্থ বছরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে দরপত্র আহবান করা হয়। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রাজ এন্টারপ্রাইজ হচ্ছে এ কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে কোনো সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় অব্যবহার্য হয়ে পড়ে আছে কালভার্টটি।

এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্মিত কালভার্টটির দক্ষিণ পশ্চিম পাশে রয়েছে মসজিদ ও মক্তব খানা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর পাশে রয়েছে শতশত লোকের বসবাস। সংযোগ সড়ক সংস্কার না হওয়ায় প্রায় ৫০০ গজ ঘুরে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজগামী ছাত্র ছাত্রীদের ও হাটবাজারগামীদের যেতে হয় তাদের গন্তব্যে। এছাড়া কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাড়িতে নিয়ে আসতে ঘুরতে হয় অনেক পথ। খালের ওপার রয়েছে দেহানখিলা কবর স্থান। কোনো লোক মারা গেলে বিকল্প রাস্তা না থাকায় নৌকা দিয়ে লাশ পরিবহন করে দাফনের ব্যবস্থা করতে হয়।

এদিকে কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন এবং কাজের মান নিয়েও এলাকায় রয়েছে নানান প্রশ্ন।

স্কুল শিক্ষক মো. জিকরুল ইসলাম বলেন, সরকার এখানে ব্রিজ দিলেও আমাদের কোনো কাজে আসছে না। খালের পানি মারিয়ে অথবা ঘুরে আসা-যাওয়া করতে হয়। সড়ক না থাকায় খুবই কষ্ট করতে হয়। কিন্তু সড়কের কাজ সম্পন্ন না করে ঠিকাদার বিল নেয় কি করে?

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)মোঃ আহাদী হোসেন বলেন, কালভার্টের কাজের মান ঠিকই আছে। কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে অর্ধেক বিল দেওয়া হয়েছে। এলাকার লোকজন মাটি ফেলা নিয়ে ঠিকাদারের সাথে ঝামেলা করছে, এমনকি ঠিকাদারের জমাকৃত মাটিও তারা এখন নিতে দিচ্ছে না বলে সংযোগ সড়ক হচ্ছে না। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, সমাধান হয়ে যাবে।

ইত্তেফাক/এমএস