জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে এই কয়েক মাস খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ সময় এখন। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরবর্তী কয়েক মাসকে একজন শিক্ষার্থীর জীবনের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট বলা যায়। উচ্চশিক্ষা অর্জনে প্রথম স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়, যার কোনো বিকল্প নেই। খোলামেলা আর বড়োসড়ো ক্যাম্পাস, গবেষণার সুযোগ, প্রতিষ্ঠিত প্ল্যাটফরম, পড়াশোনার উন্নতমান, কো-কারিকুলাম এসব কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটা এগিয়ে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে শিক্ষার্থীদের কঠিন এক ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়। লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারার সুযোগ অর্জন করে নিতে হয়। ভালো প্রস্তুতি আর ইউনিক কিছু টেকনিক অবলম্বন করে জয় ছিনিয়ে আনাটাও অসম্ভব কিছু নয়। ভর্তি যুদ্ধে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে চাইলে একজন শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য ঠিক করতে হবে সবার আগে। পছন্দের বিষয় ঠিক করার পর দেখতে হবে, কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই বিষয়টা পড়ার সুযোগ রয়েছে। পছন্দের বিষয় কিন্তু একটা না হয়ে বেশ কয়েকটাও হতে পারে। কারণ কয়েকটা বিকল্প হাতে থাকলে সফল হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশি থাকে।
সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কাঠামো সমান নয়। একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের একেক সিলেবাস। অতএব, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কী সিলেবাস, মানবণ্টন কেমন, পরীক্ষার সময় কতটুকু, ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন কী রকম ইত্যাদি বিষয়ের আদ্যোপান্ত জানতে হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট, গত বছরের সার্কুলার, গুগল, ফেসবুকের অ্যাডমিশন টেস্ট রিলেটেড বিভিন্ন পেজ এবং গ্রুপের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
বিগত বছরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন সম্বন্ধে ভালো ধারণা থাকতে হবে। নিয়ম করে আগের বছরের প্রশ্নগুলো শুরু থেকে সলভ করলে একদিকে যেমন ভর্তি পরীক্ষায় কী ধরনের প্রশ্ন আসে, কোন টপিকস থেকে বেশি প্রশ্ন আসে সেটা জানা সম্ভব হয়। প্রশ্নব্যাংক কিনে বা অন্যকোনো উপায়ে বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন সংগ্রহ করতে পারো।
দেখা গেল এই কয়েকমাস অমানুষিক পরিশ্রম করতে করতে পরীক্ষার ঠিক আগে আগেই অসুস্থ হয়ে পড়লে। তাছাড়া সামনের কয়েকটা মাস খুবই চ্যালেঞ্জের। এই সময়ে অসুস্থ হয়ে দুয়েকটা দিন নষ্ট হওয়া মানে অনেক ক্ষতি হয়ে যাওয়া। তাই স্বাস্থ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
পরীক্ষার হলের মাত্র এক ঘণ্টা সময়ই কিন্তু তোমার ভবিষ্যত্ নির্ধারণ করে দিচ্ছে। এত দিন কত ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে কিংবা তুমি খুব ভালো ছাত্র কি না এসব কোনো বিষয় না। শেষমেশ পরীক্ষার হলে পারফরমেন্স কেমন হলো সেটাই আসল কথা। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় ভালো প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার হলের অতিরিক্ত স্নায়বিক চাপ সামলাতে না পেরে হার মানে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বাসায় বসে সময় ধরে বেশি বেশি করে মডেল টেস্ট দিতে হবে।
দেশে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে
এমন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৩৪টি,
মোট আসন ৪৯৬৯৫
বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা: ৯৮৬৪৫
ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা: ৫৮১৯৬
মেডিক্যাল ও ডেন্টালে আসন সংখ্যা: ৫৯৭৭০
মোট আসন আছে
১৯ লাখের বেশি
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৯ লাখ ৮৮ হজার ১৭২
বিজ্ঞানে উত্তীর্ণ ২ লাখ ২৫ হাজার ১২ জন g মানবিকে উত্তীর্ণ ৫ লাখ ৯৮ হাজার ২৯৪ জন
ব্যবসায় শিক্ষায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৬ জন
কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কত আসন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়— ৭৩৪৯। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়— ৪১৫৯। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়— ১২০০।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ৪৯৬২। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়— ২২৩৮। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়— ১৬৯৫। শাহজালাল
বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়— ১৬৮৯। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়— ৫৮৮। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়— ৮১৫। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়— ২৭৬৫। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়— ১১৩৫। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়— ১৩১৫। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল— ১২০০ । বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়— ৫৬০। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়— ১৩৮০। পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়— ৮৪৬। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয়— ২৮৫১। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়— ২০৯২। তথ্যসূত্র: ইউজিসি
ছবি: আইইউবিএটি, ঢাকা
