দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। ফিটনেসবিহীন এসব গাড়ির বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। জরিমানা আদায় হয়েছে প্রায় সাত কোটি টাকা। বিআরটিএর পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনের উপর শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ দুই মাসের মধ্যে এসব যানবাহনের ফিটনেস নবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিআরটিএকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বলেন, বিআরটিএর নাকের ডগায় এত ফিটসেনবিহীন গাড়ি কিভাবে চলছে? কেনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা কারো পক্ষে বিপক্ষে নই। আমরা জনগণ, দেশ ও জাতির কল্যাণের পক্ষে।
আদেশের পূর্বে হাইকোর্টে বিআরটিএর পক্ষে আইনজীবী রাফিউল ইসলাম ওই প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকাসহ সারাদেশে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ির সংখ্যা চার লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুই লাখ ৬১ হাজার ১১৩টি, চট্টগ্রাম বিভাগে এক লাখ ১৯ হাজার ৫৮৮টি, রাজশাহী বিভাগে ২৬ হাজার ২৪০টি, রংপুর বিভাগে ছয় হাজার ৫৬৮টি, খুলনা বিভাগে ১৫ হাজার ৬৬৮টি, সিলেট বিভাগে ৪৪ হাজার ৮০৫টি এবং বরিশাল বিভাগে পাঁচ হাজার ৩৩৮টি মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেসবিহীন যানবাহন রয়েছে। এতে আরো বলা হয়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বিআরটিএ ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ৩৯ হাজার ৮৩৭টি মামলা করেছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ছয় কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯২ টাকা। ডাম্পিং করা হয়েছে ২১৪টি গাড়ি। ৭২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক শুনানি করেন। তিনি বলেন, জুলাই ও আগস্ট মাসের মধ্যে যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন না করলে আদালত এসব গাড়ি বন্ধে প্রয়োজনীয় আদেশ দেবে। এ বিষয়ে পত্রিকায় ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিতে বিআরটিএকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গত ২৪ জুন হাইকোর্ট এক আদেশে দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা কত তা জানাতে বিআরটিএকে নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশের প্রেক্ষিতে এ রিপোর্ট দাখিল করে সরকারি এ সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিআরটিএ মিরপুরে একটি ভেহিকল ইন্সপেকশন সেন্টার (ভিআইসি) স্থাপন করেছে। পর্যায়ক্রমে সকল জেলায় তা স্থাপন করা হবে।
