প্রতীক্ষার ডাকসু নির্বাচন

জুলাইয়ে পূর্ণাঙ্গ তফসিল, আগষ্টের প্রথমার্ধে ভোট!

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৫, ০৯:২৬

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বহুল প্রত্যাশার ডাকসু নির্বাচন। ঢাকা বিশ্ববিদালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের(ডাকসু) আসন্ন এ নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসে জমে ওঠেছে ছাত্র রাজনীতির নানা সমীকরণ। ডাকসুর বিভিন্ন পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছাত্রনেতারা ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকান্ড এবং ক্যাম্পাস আড্ডায় নিজেদের প্রার্থীতার পক্ষে শিক্ষার্থীদের ভোট টানতে নেমে পড়েছেন। 

যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণার পরেই ছাত্রসংগঠনগুলো দলীয় প্যানেল ঘোষণা করবে, তবে ডাকসু নির্বাচনের জন্য ঢাবি কতৃপক্ষ ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করায় পালে হাওয়া পাচ্ছে ঢাবি শিক্ষার্থীদের এই প্রাণের দাবি। ছাত্র সংগঠনগুলোও দফায় দফায় সভা করে প্যানেল গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে। 

আসন্ন ডাকসু নির্বাচনের তফসিল এবং ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত ডাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খুবই আন্তরিকভাবে ডাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ করতে কাজ করছে। তিনি জানান, চলতি জুন মাসের বাকি দিনগুলো অথবা জুলাই মাসের প্রথম ভাগে তফসিল প্রকাশ করে ৫ আগষ্ট থেকে ১৫ আগষ্টের মধ্যেই ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং অন্যান্য প্রস্তুতি শেষে ভোট গ্রহনের জন্য চেষ্টা করছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা ও মতামতের ভিত্তিতে এবং ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি শেষে আমরা চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করবো।

ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর শীর্ষনেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডাকসু নির্বাচনে প্রতিটি সংগঠনই নিজেদের জনপ্রিয় এবং ক্যারিশমাটিক ছাত্রনেতাদের নিয়ে প্যানেল গঠন করার চেষ্টা করছে। সংগঠনগুলোর মাঝে বন্ধুপ্রতিম কিংবা কাছাকাছি আদর্শের ছাত্রসংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে শক্তিশালী যৌথ প্যানেল করার জন্য নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কোনো ছাত্রসংগঠনে পদধারী না হয়েও ক্যাম্পাসের নানা আন্দোলন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে বিভিন্ন পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

এর  আগে ২০২৪ এর গণ-অভ্যুথানের পর উপাচার্যসহ প্রায় সব প্রশাসনিক পদে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ডাকসুর প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নতুন নির্বাচনের জন্য একাধিক প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত জুন মাসে বিভিন্ন অনুষদের দশ জন শিক্ষকের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে ঢাবি প্রশাসন। তার পর থেকেই মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু করে টিএসসি, কলাভবন, কার্জনহল বা ক্যাম্পাসের ক্লাস-পরীক্ষার ফাঁকের আড্ডাগুলোতে শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উঠে আসছে ডাকসু নির্বাচন আর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম। শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উঠে আসছে ডাকসু নিয়ে আশাভঙ্গের বিভিন্ন ঘটনাও। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতা সাম্য হত্যাকান্ড, একাধিকবার ককটেল বিষ্পোরণ এবং আরও কিছু অপ্রীতিকর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মনে ডাকসু নিয়ে আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। 

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে ডাকসু নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। প্রতিষ্ঠানটির প্রক্টর এবং সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাককে বলেন, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যালট ছিনতাই, রাতে ভোট গ্রহন এবং শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে সে নির্বাচনের প্রকৃত আমেজ শিক্ষার্থীরা উপভোগ করতে পারেন নি। তবে ২০২৪ সালের অভ্যুথানের পর এখন ক্যাম্পাসে দল-মত নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে নিজেদের রাজনৈতিক সহাবস্থান বজায় রেখে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে, যা প্রশংসনীয়। 
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কর্মকর্তা জানান, ডাকসুকে ঘিরে কেউ যাতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ঘোলাটে করতে না পারে এ বিষয়ে আইনশৃঙখলা বাহিনী, নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলার মাধ্যমে প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর হবে। প্রক্টর আশা করেন, আসন্ন ডাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের জন্য উপভোগ্য এবং যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের উপলক্ষ হবে।

ইত্তেফাক/এএম