জাহাঙ্গীরনগরে ভবন নির্মাণের জন্য অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে, জানেন না উপাচার্য

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৫, ১৭:১৪

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণের জন্য অন্তত ৫০টির বেশি গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্সের কর্মীরা এক্সকাভেটর ব্যবহার করে পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সামনের অংশে এই গাছগুলো অপসারণ করেন।

সোমাবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাছ কাটা শুরু হয়। এ সময় নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া গণিত বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। গাছ কাটার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট ও সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে এর প্রতিবাদ জানান।

দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) নাসির উদ্দীনসহ কয়েকজন শিক্ষক সেখানে যান। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য জানান, গাছ কাটার অনুমতি কে দিয়েছে, তা তিনি জানেন না। এরপর তার নির্দেশে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়। তবে তার আগেই অর্ধশতাধিক গাছ কাটা হয়ে যায়।

উপাচার্য বলেন, 'আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল, যিনি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির টেন্ডার পাবেন, তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী ভবনের স্থান নির্ধারণ করা হবে। ভবন অবশ্যই দরকার, কিন্তু তা যেন পরিবেশের ক্ষতি না করে। অথচ আমাকে না জানিয়েই গাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আজই প্রশাসনিক সভা ডাকা হয়েছে।'

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে এই এলাকাতে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাস্টারপ্ল্যান না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে তা স্থগিত করা হয়। উপাচার্য পরবর্তীতে আশ্বস্ত করেছিলেন, পরামর্শ ছাড়া নির্মাণ কাজ শুরু হবে না। তা সত্ত্বেও আজ গাছ কাটা হলো।

স্থানীয়ভাবে দেখা গেছে, কাটা গাছগুলোর বেশিরভাগই সেগুন ও কাঁঠালগাছ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আবদুল আজিজ বলেন, গণিত বিভাগের ছাত্র নেতা আবু রুম্মান তাকে ফোনে গাছ কাটার সব সমস্যা মিটে যাওয়ার কথা জানান। সেই কথা শুনেই তিনি লোকবল পাঠান। তবে কোনো শিক্ষক বা উপাচার্যের অনুমতি ছাড়াই কাজ শুরু করাটা ভুল ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।

গণিত ছাত্র সংসদের সহসভাপতি আবু রুম্মান বলেন, 'আমরা গাছ কাটার পক্ষে নই। কিন্তু আমাদের ক্লাসরুম, ল্যাব, শিক্ষকের বসার জায়গা সংকট রয়েছে। তাই যতটা সম্ভব কম ক্ষতি করে হলেও ভবন দরকার।'

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১,৪৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ছয়টি দশতলা হল ইতোমধ্যে নির্মিত হয়েছে, যার কারণে কয়েক হাজার গাছ কাটা হয়। ছাত্রদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও প্রশাসন তা উপেক্ষা করে।

এ বিষয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক সজীব আহমেদ বলেন, 'মাস্টারপ্ল্যান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অথচ তার আগেই গাছ কাটা হলো, যার ব্যাপারে পিডি বা উপাচার্য কেউই অবগত নন। আমরা জানতে চাই—এই গাছ কাটার পেছনে কার অনুমতি ছিল। যদি প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয়, আমরা আইনি পদক্ষেপে যাব।'

ইত্তেফাক/আইএ