চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর গ্রন্থাগার সহকারী গ্রেড-২ পদে নিয়োগ পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও নির্বাচনী বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য অধ্যাপক ড. শেখ আফতাব উদ্দিন লিখিতভাবে পরীক্ষাটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮৯তম সিন্ডিকেট সভার ২৫ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল ২০২৫ থেকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য মেরিন সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের তৃতীয় শ্রেণির নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্য মনোনীত হন অধ্যাপক শেখ আফতাব।
তবে গত ২৫ জুন সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এর অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী বোর্ডের সভায় তাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষা পরিচালনায় তাকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়। অধ্যাপক শেখ আফতাব উদ্দিন সভায় উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তার উপস্থিতি সত্ত্বেও পরীক্ষার পূর্বে কোনো আলোচনা কিংবা মতামত গ্রহণ করা হয়নি।
রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো এক লিখিত পত্রে অধ্যাপক আফতাব লিখেছেন, “বিগত প্রশাসনের সময়েও আমি বোর্ডে উপস্থিত থেকে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে অংশগ্রহণ করেছি। অথচ এবার আমাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। একজন বৈধ বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে এ ধরনের অব্যবস্থাপনাকে বৈধ মনে করছি না। এ অবস্থায় আমি উক্ত পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে অধ্যাপক আফতাব ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “এটি একটি গ্রন্থাগার বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট পদ। এজন্য লাইব্রেরি সায়েন্সের বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তিকেই আমরা প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্ব দিয়েছি। লাইব্রেরি পরিচালক আলমগীর সাহেব প্রশ্নপত্র করেছেন এবং পরীক্ষা নিয়েছেন। অধ্যাপক আফতাব সম্ভবত বিষয়টি সঠিকভাবে বোঝেননি।”
নিয়ম লঙ্ঘন না ব্যাখ্যার অভাব?
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন আচরণকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষজ্ঞ সদস্যকে উপেক্ষা করে নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা কতটা নৈতিক ও নিয়মতান্ত্রিক? পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।
