ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে আবারও আলোচনা শুরু করার আহ্বান জি-৭ দেশগুলোর

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৫, ১৩:৪৮

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পর ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে শিল্পোন্নত সাতটি দেশের জোট জি-৭। একইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারও কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছে তারা। সোমবার (৩০ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে জি-৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই আহ্বান জানান বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

বিবৃতিতে বলা হয়, একটি 'বিস্তৃত, যাচাইযোগ্য ও টেকসই চুক্তি' গঠনের লক্ষ্যে অবিলম্বে আলোচনা পুনরায় শুরু করা প্রয়োজন, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন এক সমঝোতার চেষ্টা চলছে। ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রমকে শান্তিপূর্ণ দাবি করলেও, ইসরায়েলসহ পশ্চিমা মিত্ররা শঙ্কা প্রকাশ করছে—তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোতে পারে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যা টানা ১২ দিনের সংঘাতের অবসান ঘটায়। এ যুদ্ধ শুরু হয় এমন এক সময়ে, যখন গাজায় ইসরায়েলি হামলার জেরে পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত অবস্থায় ছিল।

সংঘাতের একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যার জবাবে ইরান কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা করে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জি-৭ দেশগুলো অঞ্চলটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।

জি-৭ বিবৃতিতে বলা হয়, 'আমরা সকল পক্ষকে এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাই, যা এই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।'

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা 'আশাব্যঞ্জক' এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানকে অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মধ্যে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ইরান পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক চুক্তির সদস্য, তবুও ইসরায়েল সেই চুক্তিতে নেই। জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা (IAEA) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানে এমন কোনও ‘সক্রিয় ও সমন্বিত’ পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির তথ্য তারা পায়নি যা তাৎক্ষণিক উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে জি-৭ দেশগুলোর আহ্বান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে।

ইত্তেফাক/টিএইচ