তুলির শেষ আঁচড় টানতে যাচ্ছেন লাসিথ মালিঙ্গা। ইতি টানছেন বর্ণাঢ্য এক ওয়ানডে ক্যারিয়ারের। আগামী শুক্রবার বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটা খেলতে নামবে শ্রীলঙ্কা। আর এটাই হবে মালিঙ্গার ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে। এই খবর নিশ্চিত করেছেন স্বয়ং শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দ্বিমুথ করুনারত্নে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ও প্রথম ম্যাচটা খেলবে। এরপরই অবসর নেবে। আমি জানি না নির্বাচকদের সঙ্গে ওর কি কথা হয়েছে। তবে আমি জানি ও কেবল একটা ম্যাচই খেলবে।’ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে।
এখানেই মালিঙ্গার ক্যারিয়ার থেমে যাওয়ার অর্থ হলো—তিনি শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হয়েই ইতি টানবেন। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসেও অবশ্য তিনি আছেন ১০ নম্বরে। এখন মালিঙ্গার উইকেট ৩৩৫টি। ৩৩৭টি উইকেট নিয়ে নয় নম্বরে আছেন সাবেক ভারতীয় স্পিনার অনিল কুম্বলে। ফলে শুক্রবার চাইলে কুম্বলেকে ছাড়িয়েও যেতে পারেন তিনি। মালিঙ্গা পাঁচ উইকেট পেয়েছেন আট বার, চার উইকেট পেয়েছেন ১১ বার। যদিও আর একটি উইকেট পেলেই আরেকটি রেকর্ড গড়ে ফেলতে পারেন তিনি। তিনি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ৫০টি উইকেট পাওয়ার কীর্তি গড়ার থেকে মাত্র এক উইকেট দূরে দাঁড়িয়ে আছেন।
মালিঙ্গার এই হঠাত্ বিদায় শ্রীলঙ্কার বোলিংকে ভালোই বিপদে পড়তে পারে বলে মনে করছেন দ্বিমুথ করুনারত্নে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো একজন উইকেট-টেকিং বোলার খুঁজে বের করা। এমন একজন বোলার দরকার যে কি না ইনিংসের শুরুতে উইকেট পাবে, ইনিংসের মাঝে ব্রেক থ্রু পাবে।’
যদিও মালিঙ্গার বিদায়ের কথা আগে থেকেই জানা ছিল সতীর্থদের। করুনারত্নে বলেন, ‘সিরিজের আগেই আমরা জানতাম এমন কিছু হবে। আমরা তো জানতাম, মালিঙ্গাকে এই সিরিজে আমরা পাবো না। ফলে এখন তরুণ কোনো প্রতিভা খুঁজে বের করতেই হবে।’
২০০৪ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পর থেকে ১৫ বছর মালিঙ্গা লঙ্কান ক্রিকেটকে সেবা দিয়ে গেছেন। সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১০ সালের আগস্টে। এবার ৫০ ওভারের ক্রিকেট থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। মালিঙ্গা আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা বোলারদের একজন। যদিও ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে বড়ো একটা সময় ইনজুরি আর ফিটনেসের ইস্যু নিয়েই লড়াই করতে হয়েছে। যদিও এই বয়সে এসেও যে নিজের দিনে মালিঙ্গাই সেরা সেটার প্রমাণ বিশ্বকাপের মঞ্চেই পাওয়া গেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ৪৩ রানে চার উইকেট নিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। তবে এর সবকিছুই এখন অতীত হয়ে যাওয়ার পথে।
মালিঙ্গা কেবল দেশের ক্রিকেটই নয়, দেশের মাটিও ছাড়ছেন। অবসরের পর তিনি পুরো পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে চলে যাবেন অস্ট্রেলিয়ায়। মালিঙ্গা ইতিমধ্যেই স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তিনি কোচিংয়েও নিজেকে জড়াবেন।
