প্রস্তুতিতে ঘাম, পারফরম্যান্সে প্রশ্ন

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৫, ১৫:৪১

শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডে সিরিজ সামনে রেখে বল ও ব্যাট হাতে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। দলের মধ্যে প্রস্তুতির কমতি নেই। নেটে ঘাম ঝরছে, ফিটনেস নিয়ে কাজ চলছে, কোচরা দিচ্ছেন নির্দেশনা। কিন্তু মাঠে সেই পরিশ্রমের প্রতিফলন কবে দেখা যাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। 

প্রধান কোচ ফিল সিমন্স পুরো দল নিয়েই কাজ চালিয়ে গেলেও প্রস্তুতি পর্বে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে দুই জন কোচের নিরলস পরিশ্রম। পেসারদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন বোলিং কোচ শন টেইট। বিশেষ করে, মোস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদের সঙ্গে তার নিবিড় কাজ চলেছে গত কয়েক দিন ধরে। রানআপ, লাইন-লেন্থে, ডেথ ওভারে বৈচিত্র্য-সবকিছুতেই মনোযোগ দিয়েছেন টেইট।

অন্যদিকে ব্যাটারদের নিয়ে, বিশেষ করে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে আলাদা করে কাজ করেছেন সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শান্তর টেকনিক, ধৈর্য এবং মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। কোচিং স্টাফে ফিল সিমন্সই প্রধান, তবে ক্রিকেটারদের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতায় সালাউদ্দিনই এগিয়ে-এই বাস্তবতাই স্পষ্ট হয়েছে অনুশীলনে।

দলের ব্যাকগ্রাউন্ড ম্যানেজমেন্টেও ছিল কিছু আলোচনার ঝড়। বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এসেছেন শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে। বিশেষ করে, শান্তর অধিনায়কত্ব ও দল পরিচালনা সংক্রান্ত জটিলতা মীমাংসার দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনে তিনি সফল হননি। বরং বিষয়টিকে 'লেজে-গোবরে' করে ফেলেছেন বলেই অভিযোগ উঠেছে। দলের ভেতরে স্বাভাবিক পরিবেশ থাকার বদলে আরো কিছু বিতর্ক ও দ্বিধা তৈরি হয়েছে তার হস্তক্ষেপে।

তার ওপর পারফরম্যান্সের গ্রাফ নামছে প্রতিনিয়ত। কেউ রান পাচ্ছেন না, কেউ উইকেট তুলতে পারছেন না। এই অবস্থায় ফাহিম কিছুটা পরিস্থিতি জোড়াতালি দিয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে তা যে কতটা কার্যকর হবে, সেটা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। এর মাঝেও দায়িত্বে অবিচল ছিলেন ফিল সিমন্স। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং-তিন বিভাগেই নজর দিয়েছেন তিনি। 

তবে গতকালকের অনুশীলনে ব্যাটিং ও বোলিং নিয়েই বেশি কাজ হয়েছে। ওপেনিংয়ে মোহাম্মদ নাঈম শেখকে নতুন করে সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে ফিরেছেন, এবার তার পরীক্ষা মূলমঞ্চে।

ফিল্ডিং কোচ জেমস পেমেন্টও বসে ছিলেন না। টাইগারদের নিয়ে ক্যাচিং অনুশীলন করিয়েছেন, ঘাম ঝরিয়েছেন। তার নির্দেশনায় খেলোয়াড়রা আলাদা গ্রুপে ভাগ হয়ে করেছেন রিফ্লেক্স আর হাই ক্যাচ অনুশীলন। জ্বর থেকে সেরে উঠে কলম্বো টেস্ট খেলেছিলেন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। নতুন দায়িত্বে অনেকেই তাকে নিয়ে সংশয় দেখালেও মাঠে তার শরীরী ভাষা ছিল আত্মবিশ্বাসী। তিন বিভাগেই নিজেকে প্রস্তুত করেছেন চূড়ান্তভাবে। বোলিংয়ে কাজ করেছেন, ব্যাট হাতে নেটে ব্যস্ত ছিলেন অনেকক্ষণ, ফিল্ডিংয়েও রেখেছেন দারুণ তৎপরতা।

সব মিলিয়ে প্রস্তুতির ঘাটতি নেই, ঘাটতি আছে কেবল পারফরম্যান্সে। পরিশ্রম যদি মাঠে রূপ নেয় আত্মবিশ্বাসে, তবে এই সফর হতে পারে প্রত্যাবর্তনের সূচনা। তবে শুরুটা যে কেমন হবে, সেটি দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটভক্তরা। আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা থেকে সবগুলো ম্যাচ শুরু হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ