কুষ্টিয়ায় বিএনপির জেলা ও পৌর কমিটি গঠনে অনিয়ম এবং ভোট কারচুপির অভিযোগে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির কার্যালয় ঘেরাও করেছে। তারা মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি এবং সদ্য গঠিত পৌর কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা আড়াই ঘণ্টাব্যাপী জেলা বিএনপির কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। এই ঘটনা কেন্দ্র করে জেলা বিএনপিতে ব্যাপক অসন্তোষ এবং কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা কুষ্টিয়া পৌর বিএনপির নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের স্লোগান ছিল—‘জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই করো’, ‘অবৈধ নির্বাচন মানি না, মানব না’ প্রভৃতি। তারা ভোট কারচুপির জন্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুবউদ্দিন আহমেদ এবং সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারকে দায়ী করেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য-সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, "গঠিত নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে পৌর বিএনপির কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে কোন ধরনের কারচুপি বা অনিয়ম হয়নি।"
জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত পত্রে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির দুই সদস্যবিশিষ্ট আংশিক আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ছয় মাস মেয়াদী ৩১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তবে, সেই কমিটিতে জেলা বিএনপির বেশ কিছু ত্যাগী নেতা পদবঞ্চিত হন।
এদিকে, ২৭ জুন অনুষ্ঠিত পৌর বিএনপির নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পর দিন ২৮ জুন পৌর বিএনপির ভোট কেন্দ্র সংলগ্ন একটি বাথরুমে প্রায় দেড় শতাধিক সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধার হয়, যা ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে।
ফলস্বরূপ, পৌর বিএনপির পরাজিত সভাপতি প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান ওরফে কাজল মাজমাদার এবং তার সমর্থকরা ভোট কারচুপি অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর প্রতিবাদ হিসেবে তারা জেলা বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ আহবায়ক কমিটি এবং সদ্য গঠিত পৌর কমিটি বাতিলের দাবিতে জেলা কার্যালয় ঘেরাও করেন।
এসময়, কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় অবস্থিত জেলা বিএনপির ৮তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় দলীয় শীর্ষ নেতাদের কেউ কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। ঘেরাও কর্মসূচিতে নারী-পুরুষসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক বিএনপি কর্মী অংশ নেন।
